রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ‘ডাবল গেম’: মোবাইল কেড়ে নিয়ে নম্বর দিয়ে যাচ্ছে দস্যুরা!

 প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ‘ডাবল গেম’: মোবাইল কেড়ে নিয়ে নম্বর দিয়ে যাচ্ছে দস্যুরা!

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​রাজধানীর আদাবর এলাকায় ছিনতাইকারীদের এক অভিনব ও বিচিত্র কৌশলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। এখন আর শুধু অস্ত্র ঠেকিয়ে মালামাল লুট করেই দায়িত্ব শেষ করছে না অপরাধীরা; বরং লুটের পর ভুক্তভোগীর হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে একটি মোবাইল নম্বর। উদ্দেশ্য—ছিনতাই করা মালামাল টাকার বিনিময়ে ‘ফেরত’ দেওয়া। দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে পরিচালিত এই ‘ডাবল গেম’ বা দ্বিমুখী অপরাধের জালে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা।

​সম্প্রতি আদাবরের মনসুরাবাদ এলাকায় এক ফুচকা বিক্রেতার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি এই নতুন কৌশলের ভয়াবহ রূপটি সামনে এনেছে। রোববার দুপুরে খাবার খেতে বাসায় যাওয়ার পথে তিন ছিনতাইকারী ওই বিক্রেতাকে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে নিয়ে যায়। মাথায় আঘাত করে তার মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু নাটকীয়তা শুরু হয় এর কিছুক্ষণ পর। দুজন ব্যক্তি এসে ওই বিক্রেতাকে একটি ফোন নম্বর দিয়ে বলে, "তিনটার দিকে কল দিও, টাকা দিলে ফোন ফেরত পাবে।" কিস্তির টাকায় কেনা ফোনটি ফিরে পাওয়ার আশায় ওই বিক্রেতা তখন দিশেহারা হয়ে পড়েন।

​একই কায়দায় গত ২৭ এপ্রিল ছিনতাইয়ের শিকার হন এক হোটেল কর্মচারী। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মনসুরাবাদ এলাকাটি এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সেখানকার একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরকে আস্তানা বানিয়ে দিনরাত চলে মাদকের আড্ডা ও অপরাধের পরিকল্পনা। ছিনতাইকারীরা এতটাই চতুর যে, ধরা পড়ার ভয় এড়াতে তারা অনেক সময় আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোও নষ্ট করে ফেলে। দিনের আলোতেও এখন এই পথে চলতে মানুষ আতঙ্ক বোধ করছেন।

​তবে এই চক্রের তৎপরতা থামিয়ে দিতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। সম্প্রতি ‘ইউসুফ গ্রুপ’ নামক এক ছিনতাইকারী চক্রের প্রধান ইউসুফসহ পাঁচজনকে আটক করেছে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ইউসুফের নেতৃত্বেই এই দুই স্তরের ছিনতাই প্রক্রিয়া পরিচালিত হতো। এক দল ছিনতাই করত এবং অন্য দল টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দিত।

​তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী ফুচকা বিক্রেতার মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই চক্রের পেছনে আরও রাঘববোয়াল আছে কি না এবং এলাকার অন্যান্য ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে তাদের যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আতঙ্কে থাকা এলাকাবাসী এখন স্থায়ী সমাধান এবং এই ‘ছিনতাই-বাণিজ্য’ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement