প্রশিক্ষণহীনদের জন্য বন্ধ ক্লাসরুমের দুয়ার: ঢেলে সাজানো হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা

 প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

প্রশিক্ষণহীনদের জন্য বন্ধ ক্লাসরুমের দুয়ার: ঢেলে সাজানো হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা:

​প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে এক কঠোর ও বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এখন থেকে প্রয়োজনীয় পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করে কোনো শিক্ষকই আর শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়াতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি সরকারের এই অনড় অবস্থানের কথা জানান।

​প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পাঠদানের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকার আপসহীন। প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে না পাঠানোর সিদ্ধান্তের কারণে ইতিমধ্যেই সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষকের ক্ষোভ ও মিছিলের মুখে পড়তে হয়েছে সরকারকে। তবে প্রতিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার তার অবস্থানে অনড়। এই শিক্ষকরা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ শেষ করে আগামী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় পাঠদানে ফিরবেন।

​দেশের শিক্ষা খাতের বর্তমান অবস্থাকে ‘ভঙ্গুর’ হিসেবে অভিহিত করে ববি হাজ্জাজ বলেন, গত কয়েক বছরে এই খাতের যে ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামতের কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার। এই সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বেসরকারি স্কুলগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে একটি ‘রেগুলেটরি বোর্ড’ বা তদারকি পর্ষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ১৪ মে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে।

​বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের জরুরি সংস্কার প্রয়োজন। কিছু ভবন এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে সেগুলো নতুন করে নির্মাণ করা ছাড়া বিকল্প নেই। তবে সরকার কেবল ভবন নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; ভবনের নকশার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির একটি শৈল্পিক ও কার্যকরী সমন্বয় ঘটাতে আগ্রহী।

​শিক্ষাক্রম বা কারিকুলামের ক্ষেত্রেও আসছে বড় পরিবর্তন। প্রতিমন্ত্রী জানান, একটি ‘সিমিলার স্ট্যান্ডার্ড কারিকুলাম’ বা সমমানের শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ চলছে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কাজের সমন্বয় থাকবে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য একটি টেকসই কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে, যা খুব দ্রুতই জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে। এর পাশাপাশি ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

​প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতীতের ‘দোয়েল ল্যাপটপ’ প্রকল্পের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার এবার সতর্ক পা ফেলছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া অন্ধভাবে প্রযুক্তির পেছনে ছুটবে না সরকার; বরং প্রযুক্তিকে পাঠদানের একটি সহায়ক উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

​শিক্ষকদের জন্য সুখবর দিয়ে তিনি জানান, বেতন, পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের পথ সুগম করতে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘শিক্ষক নীতিমালা’ তৈরির কাজ চলছে। একইসঙ্গে ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ বা পিডিপি-৫ এর কাজ আগামী জুন-জুলাই নাগাদ মাঠপর্যায়ে পুরোদমে শুরু হবে। নাগরিক সংলাপে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রতিনিধিদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে দায়বদ্ধ এবং শিক্ষা খাতের যেকোনো ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পূর্ণ অধিকার জনগণের রয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement