নিরাপত্তার দুর্ভেদ্য চাদরে রূপপুর: শঙ্কা উড়িয়ে পরমাণু বিদ্যুতের নতুন দিগন্ত

 প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

নিরাপত্তার দুর্ভেদ্য চাদরে রূপপুর: শঙ্কা উড়িয়ে পরমাণু বিদ্যুতের নতুন দিগন্ত

​নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা

​বাংলার দিগন্তে এখন এক নতুন সূর্যের হাতছানি। রূপপুরের আকাশে ডানা মেলছে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বপ্ন। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে যে শঙ্কা আর সংশয়ের মেঘ জমে ছিল, প্রযুক্তির আধুনিকতম রক্ষাকবচ দিয়ে তা উড়িয়ে দিচ্ছেন পরমাণু বিজ্ঞানীরা। চেরনোবিল কিংবা ফুকুশিমার সেই ধূসর স্মৃতি এখন অতীত; রূপপুর সেজেছে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ‘থ্রি-প্লাস’ প্রজন্মের প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা বর্মে।

​এই প্রকল্পের হৃৎপিণ্ড হলো রাশিয়ার তৈরি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর। সত্তরের দশকের পুরনো প্রযুক্তির পরিবর্তে এখানে ব্যবহার করা হয়েছে ২০১৫ সালের সর্বাধুনিক নকশা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, রূপপুরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেকটা দুর্ভেদ্য দুর্গের মতো। এখানে রয়েছে ‘কোর ক্যাচার’ এবং ‘ডাবল কন্টেইনমেন্ট’ বা দ্বিস্তর বিশিষ্ট সুরক্ষা কাঠামো। অর্থাৎ, চরম বিপর্যয়ের মুহূর্তেও যদি রিঅ্যাক্টরের মূল অংশ বা কোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সেই গলিত জ্বালানি বিশেষ আধারে আটকে যাবে এবং কোনোভাবেই বাইরের পরিবেশে তেজস্ক্রিয়তা ছড়াতে পারবে না।

​নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রোসাটমের দাবি অনুযায়ী, পাঁচ স্তরের এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প, ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়, আকস্মিক বন্যা এমনকি আকাশপথে কোনো বিমান হামলার আঘাতও সইতে সক্ষম। মূলত প্রকৃতি আর মানুষের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই সাজানো হয়েছে এই কেন্দ্রটি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা করে তবেই এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে।

​নীতিনির্ধারকরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানাচ্ছেন, অন্তত ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেবে এই কেন্দ্র। তবে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি এর দক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপরও জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যন্ত্র যত শক্তিশালীই হোক, মানুষের মেধা ও সঠিক পরিচালনা একে পূর্ণতা দেবে।

​সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী আগস্টেই জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে যাচ্ছে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এরপর ধাপে ধাপে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের এই মেগা প্রজেক্ট। বিজ্ঞানের বিস্ময় আর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে রূপপুর এখন বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের এক নতুন ও নিরাপদ আস্থার প্রতীক।

Advertisement
Advertisement
Advertisement