কোরবানির হাটে নগদ টাকার ঝুঁকি শেষ: ক্যাশলেস লেনদেনে ডিজিটাল বিপ্লব

 প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

কোরবানির হাটে নগদ টাকার ঝুঁকি শেষ: ক্যাশলেস লেনদেনে ডিজিটাল বিপ্লব

​নিজস্ব প্রতিবেদক

​পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের পশুর হাটগুলোতে বইছে উৎসবের  আমেজ। তবে এবারের কোরবানির হাটে গরু-মহিষের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। পকেটভর্তি নগদ টাকা নিয়ে হাটে যাওয়ার ভয় আর জাল নোটের দুশ্চিন্তা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মুক্তি দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঢাকাসহ দেশের পাঁচটি প্রধান মহানগরীর ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ হাটে বসছে বাণিজ্যিক ব্যাংকের অস্থায়ী ক্যাম্প, যা পশুর হাটকে রূপ দিচ্ছে এক টুকরো ‘ডিজিটাল ব্যাংকিং জোনে’।

​সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী আব্দুল মালেকের চোখেমুখে এখন স্বস্তির আভা। প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার লেনদেন শেষে সেই টাকা আগলে রাখা ছিল তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলছিলেন, "নগদ টাকা বহন করা মানেই জীবন হাতে নিয়ে চলা। এখন হাটে ডিজিটাল পেমেন্ট থাকলে নিশ্চিন্তে ব্যবসা করা যাবে।" কেবল আব্দুল মালেক নন, তার মতো হাজারো ব্যাপারির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার হাটে থাকছে এটিএম বুথ, কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট এবং পয়েন্ট অব সেল (পস) মেশিনের মতো সব আধুনিক সুবিধা।

​বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এই ডিজিটাল যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে মাত্র ৩৩ কোটি টাকার লেনদেন দিয়ে। তবে সময়ের সাথে সাধারণ মানুষের আস্থা এতটাই বেড়েছে যে, ২০২৫ সালে তা লাফিয়ে দাঁড়িয়েছে ২২৭ কোটি টাকায়। এই ধারাবাহিকতায় এবার ঢাকার ২৫টিসহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুরের ৩০টি হাটে বসানো হচ্ছে ব্যাংকিং বুথ। যেখানে তাৎক্ষণিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে জাল টাকা শনাক্তকরণ—সব সেবাই মিলবে হাতের নাগালে।

​রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক থেকে শুরু করে বেসরকারি সিটি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিশাল কর্মযজ্ঞে শামিল হয়েছে। ব্যাংকারদের মতে, এটি কেবল একটি মৌসুমী সেবা নয়, বরং দেশের অর্থনীতিকে ‘ক্যাশলেস’ বা নগদহীন করার পথে এক বিশাল মাইলফলক। পশুর হাটের মতো বিশৃঙ্খল ও জনাকীর্ণ স্থানে এমন স্বচ্ছ ও নিরাপদ লেনদেনের ব্যবস্থা সাধারণ মানুষকে ডিজিটাল অর্থনীতিতে আরও আগ্রহী করে তুলছে।

​বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, এই বছর লেনদেনের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। ক্রেতারা এখন শুধু মোবাইল ফোন বা কার্ড ব্যবহার করেই পশুর দাম পরিশোধ করে হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পারবেন। এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন ছিনতাই বা প্রতারণার ঝুঁকি কমছে, অন্যদিকে দেশের মুদ্রাবাজারেও ফিরছে স্বচ্ছতা। কোরবানির পশু কেনাবেচার চিরচেনা দৃশ্যপট বদলে দিয়ে এই ডিজিটাল বিপ্লব এখন আমাদের স্মার্ট বাংলাদেশের পথে একধাপ এগিয়ে দিচ্ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement