তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের হাত ধরছে ঢাকা: বেইজিংয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে নতুন দিগন্তের আভাস

 প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের হাত ধরছে ঢাকা: বেইজিংয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে নতুন দিগন্তের আভাস

​​ডেক্স নিউজ:

কূটনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন ও উজ্জ্বল অধ্যায় রচিত হলো বেইজিংয়ের রাজকীয় পরিবেশে। তিস্তা নদীর দীর্ঘদিনের জলকষ্ট দূর করতে এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন পূরণে এবার ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে’ চীনের সক্রিয় সহযোগিতা ও সরাসরি সম্পৃক্ততা চেয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (৬ মে) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যকার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ বৈঠকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

​চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর আমন্ত্রণে তিন দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে এখন বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই নেতার এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি ছিল উন্নয়ন আর আস্থার এক অনন্য প্রতিফলন। বৈঠকের পর প্রকাশিত এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আলোচনার টেবিলে তিস্তা প্রকল্পের বিশাল ক্যানভাস যেমন ছিল, তেমনি ছিল বৈশ্বিক রাজনীতির গভীর সমীকরণ।

​বৈঠকের এক বড় অংশ জুড়ে ছিল ভূ-রাজনীতি ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ। বাংলাদেশ অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে ‘এক চীন নীতি’র প্রতি তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। ঢাকা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের রেজুলেশন ২৭৫৮-এর কর্তৃত্ব প্রশ্নাতীত এবং তাইওয়ান চীনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। বেইজিংয়ের জাতীয় পুনঃ একত্রীকরণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে যে, যেকোনো ধরনের ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র চেষ্টার বিপক্ষে ঢাকার অবস্থান অনড়। এর বিপরীতে, বেইজিংও বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং নিজস্ব উন্নয়নের পথ বেছে নেয়ার অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

​দুই দেশের এই মেলবন্ধন শুধু রাজনৈতিক সংহতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা ডিজিটাল অর্থনীতি, শিল্পায়ন এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো প্রগতিশীল ক্ষেত্রগুলোতেও বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর আওতায় দুই দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার সংকল্প করেছে।

​মানবিক সংকটের ক্ষেত্রেও চীনের সহায়তার আশ্বাস পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বেইজিং তাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। ঢাকা ও নেপিদোর মধ্যে সেতুবন্ধন হয়ে চীন একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাবে বলে নিশ্চিত করেছে।

​বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উদ্যোগের প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ। দুই নেতাই গাজাসহ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকবলিত অঞ্চলে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল এবং অসামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব নিয়ে তারা একমত পোষণ করেন।

​সফরের শেষ পর্যায়ে ড. খলিলুর রহমান চীনের উষ্ণ আতিথেয়তায় মুগ্ধতা প্রকাশ করেন এবং ওয়াং ই-কে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এই সফরের মধ্য দিয়ে তিস্তার চরাঞ্চল থেকে শুরু করে বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চ পর্যন্ত—ঢাকা ও বেইজিংয়ের বন্ধুত্ব যে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল, তা বলাই বাহুল্য।

Advertisement
Advertisement
Advertisement