কালবৈশাখীর ঝাপটায় উত্তাল পদ্মা-যমুনা: দুই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আকাশজুড়ে বিকেলের সোনা রোদ হঠাৎ করেই ম্লান হয়ে এল। উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকে ধেয়ে আসা কালো মেঘের ঘনঘটা আর তপ্ত বাতাসের গুমোট ভাব জানান দিচ্ছিল প্রকৃতির এক রুদ্রমূর্তির। ঠিক বিকেল ৫টা; যখন ঘরমুখো মানুষের ব্যস্ততা আর যানবাহনের গর্জন পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজীরহাট ঘাটে তুঙ্গে, তখনই মরণপণ শক্তিতে আঘাত হানল প্রচণ্ড কালবৈশাখী।
মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ অন্ধকার হয়ে নেমে এল মুষলধারে বৃষ্টি। বাতাসের তীব্র বেগ আর উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে প্রমত্তা পদ্মা ও যমুনা যেন ফুঁসে উঠল। এমন বৈরী আবহাওয়া আর উত্তাল নদীতে নৌযান চালানো রীতিমতো জীবন বাজি রাখার শামিল। তাই বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে বন্ধ করে দেওয়া হয় ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল।
পদ্মা-যমুনার এই দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুটে হুট করে সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘাট এলাকাগুলোতে নেমে আসে স্থবিরতা। ঢেউয়ের ছন্দে দুলতে থাকা বিশালকায় ফেরিগুলোকে তড়িঘড়ি করে নিরাপদ আশ্রয়ে টেনে নেওয়া হয়। বর্তমানে পাটুরিয়া, দৌলতদিয়া, আরিচা ও কাজীরহাট ঘাটের নিরাপদ প্রান্তগুলোতে নোঙর করে রাখা হয়েছে ছোট-বড় সব নৌযান।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) উপমহাব্যবস্থাপক সালাম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। প্রকৃতির এই তাণ্ডব না থামা পর্যন্ত ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। আকাশ পরিষ্কার হয়ে ঝড়-বৃষ্টি থেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবার কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে ফেরি চলাচল, আবারও গন্তব্যের পথে ছুটবে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা। ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃতির এই শান্ত হওয়ার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে প্রমত্তা নদীর দুই পাড়।