নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করলেও হারাবে না টাকা: হজযাত্রীদের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বড় স্বস্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
পবিত্র হজের টানে ঘর ছেড়েছেন হাজারো মানুষ, অন্তরে ব্যাকুলতা নিয়ে অপেক্ষায় আছেন আরও অনেকে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে শারীরিক অসুস্থতা, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা কিংবা ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় অনেকেরই স্বপ্ন থমকে যায় বিমানবন্দরের দোরগোড়ায়। নির্ধারিত ফ্লাইটটি যখন আকাশে ডানা মেলে, তখন পেছনে পড়ে থাকা হজযাত্রীর মনে কেবলই আক্ষেপ আর আর্থিক ক্ষতির দুশ্চিন্তা ভর করে। তবে সেই অনিশ্চয়তা কাটাতে এবং হজযাত্রীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক মানবিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. তফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, যৌক্তিক কোনো কারণে কোনো হজযাত্রী নির্ধারিত ফ্লাইটে যেতে না পারলে বিমান ভাড়ার টাকা আর গচ্চা যাবে না। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া এবং ফ্লাইনাস কর্তৃপক্ষকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ২০২৬ অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত বা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন তারা, যারা পরিবারের সদস্যের অসুস্থতার কারণে যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হন। গাইডলাইনের ১৫ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো হজযাত্রী যদি গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার শিকার হন এবং তার সাথে সহগামী হিসেবে নিবন্ধিত পরিবারের সদস্যরাও যদি সেই কারণে যাত্রা বাতিল করেন, তবে তারাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন। অর্থাৎ, প্রিয়জনের বিপদে পাশে দাঁড়াতে গিয়ে এখন আর কাউকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে না।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এটি একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ। সাধারণত ফ্লাইট মিস করলে এয়ারলাইন্সগুলো নানা মারপ্যাঁচে অর্থ ফেরত দিতে চায় না, যা হজযাত্রীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। নতুন এই নির্দেশনার ফলে এয়ারলাইন্সগুলো হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের সুবিধা দেবে, যার ফলে তাদের নির্ধারিত কোটার কোনো হেরফের হবে না।
উল্লেখ্য, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সৌদি আরব যাওয়ার কথা রয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া হজ ফ্লাইটে ইতোমধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার যাত্রী মক্কা-মদিনায় পৌঁছেছেন। তবে এর মাঝেও কিছু যাত্রী শারীরিক অসুস্থতা বা সময়ের ফেরে ফ্লাইট মিস করেছেন। তাদের জন্যই মূলত এই বিশেষ রক্ষাকবচ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই কড়া নির্দেশনার ফলে এয়ারলাইন্সগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা কমবে এবং হজযাত্রীরা অনেকটা নিশ্চিন্তে তাদের পবিত্র সফরের প্রস্তুতি নিতে পারবেন। যারা শেষ মুহূর্তে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই চিঠি তাদের জন্য যেন এক টুকরো আশার আলো হয়ে এসেছে।