এনআইডি জটিলতায় আটকে যাবে না উপবৃত্তি: বিশেষ তথ্য চাইল সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে বাবা-মায়ের মৃত্যু বা বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে যেসব শিক্ষার্থী এনআইডি (NID) সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ছিল, তাদের তথ্য আলাদাভাবে সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে গত ৩ মে এক জরুরি চিঠির মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
নির্দেশনার মূল বিষয়বস্তু
সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ৬ষ্ঠ এবং একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তথ্য 'এইচএসপি-এমআইএস' (HSP-MIS) সফটওয়্যারে এন্ট্রি করার কাজ চলছে। নিয়ম অনুযায়ী, উপবৃত্তির জন্য বাবা ও মা উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে:
অনেক শিক্ষার্থীর বাবা বা মা কিংবা উভয়ই মৃত।বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে অনেকেই এনআইডি সংগ্রহ করতে পারছে না।
আইনগত অভিভাবক নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
এই মানবিক ও কারিগরি সংকটের কারণে যেন কোনো যোগ্য শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্যই সরকার এই 'স্পেশাল ডাটা' সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যা করতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে
আগামী ৭ মে'র মধ্যে উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্ধারিত ছকে তথ্য পাঠাতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে তথ্যগুলো প্রদান করতে হবে:প্রতিষ্ঠানের নাম ও EIIN নম্বর।
শ্রেণিভিত্তিক মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
বাবা-মায়ের মৃত্যুজনিত কারণে এনআইডি নেই এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা।বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে এনআইডি সংগ্রহে অসমর্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা।উপবৃত্তি সংক্রান্ত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (অতিরিক্ত সংযোজন)
শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সুবিধার জন্য উপবৃত্তি সংক্রান্ত বর্তমান নিয়মের আরও কিছু দিক এখানে তুলে ধরা হলো:
পেমেন্ট পদ্ধতি: উপবৃত্তির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীর মায়ের (অথবা বৈধ অভিভাবকের) নামে নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট) বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে 'জিটুপি' (G2P) পদ্ধতিতে পাঠানো হয়।
নির্বাচন প্রক্রিয়া: উপবৃত্তি পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি (কমপক্ষে ৭৫%) এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) শিক্ষার্থী এবং চরাঞ্চল বা দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পায়।
আর্থিক সহায়তা: সাধারণত একজন শিক্ষার্থী টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি ড্রেস, জুতো এবং বই কেনার জন্য বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ এককালীন অর্থ সহায়তাও পেয়ে থাকে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের এই প্রক্রিয়াটি ‘অতি জরুরি’ হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। সময়মতো তথ্য না পাঠালে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।