এনআইডি জটিলতায় আটকে যাবে না উপবৃত্তি: বিশেষ তথ্য চাইল সরকার

 প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

এনআইডি জটিলতায় আটকে যাবে না উপবৃত্তি: বিশেষ তথ্য চাইল সরকার

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 

দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে বাবা-মায়ের মৃত্যু বা বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে যেসব শিক্ষার্থী এনআইডি (NID) সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ছিল, তাদের তথ্য আলাদাভাবে সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে গত ৩ মে এক জরুরি চিঠির মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

​নির্দেশনার মূল বিষয়বস্তু

​সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ৬ষ্ঠ এবং একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তথ্য 'এইচএসপি-এমআইএস' (HSP-MIS) সফটওয়্যারে এন্ট্রি করার কাজ চলছে। নিয়ম অনুযায়ী, উপবৃত্তির জন্য বাবা ও মা উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে:

​অনেক শিক্ষার্থীর বাবা বা মা কিংবা উভয়ই মৃত।​বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে অনেকেই এনআইডি সংগ্রহ করতে পারছে না।

​আইনগত অভিভাবক নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

​এই মানবিক ও কারিগরি সংকটের কারণে যেন কোনো যোগ্য শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্যই সরকার এই 'স্পেশাল ডাটা' সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

​যা করতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে

​আগামী ৭ মে'র মধ্যে উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্ধারিত ছকে তথ্য পাঠাতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে তথ্যগুলো প্রদান করতে হবে:​প্রতিষ্ঠানের নাম ও EIIN নম্বর।

​শ্রেণিভিত্তিক মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

​বাবা-মায়ের মৃত্যুজনিত কারণে এনআইডি নেই এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা।​বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে এনআইডি সংগ্রহে অসমর্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা।​উপবৃত্তি সংক্রান্ত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (অতিরিক্ত সংযোজন)

​শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সুবিধার জন্য উপবৃত্তি সংক্রান্ত বর্তমান নিয়মের আরও কিছু দিক এখানে তুলে ধরা হলো:

​পেমেন্ট পদ্ধতি: উপবৃত্তির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীর মায়ের (অথবা বৈধ অভিভাবকের) নামে নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট) বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে 'জিটুপি' (G2P) পদ্ধতিতে পাঠানো হয়।

​নির্বাচন প্রক্রিয়া: উপবৃত্তি পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি (কমপক্ষে ৭৫%) এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) শিক্ষার্থী এবং চরাঞ্চল বা দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পায়।

​আর্থিক সহায়তা: সাধারণত একজন শিক্ষার্থী টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি ড্রেস, জুতো এবং বই কেনার জন্য বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ এককালীন অর্থ সহায়তাও পেয়ে থাকে।

​বিশেষ দ্রষ্টব্য: সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের এই প্রক্রিয়াটি ‘অতি জরুরি’ হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। সময়মতো তথ্য না পাঠালে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement