ই-ট্রাফিকের জালে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী: হাজির না হলেই পরোয়ানা

 প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

ই-ট্রাফিকের জালে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী: হাজির না হলেই পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

​রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত সড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙার চিরাচরিত দৃশ্যে আমূল পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। এখন আর শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক পুলিশের চোখ এড়িয়ে পার পাওয়া যাবে না। কারণ, নগরীর প্রতিটি মোড়ে ও সিগন্যাল পয়েন্টে বসানো হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (AI) আধুনিক সিসি ক্যামেরা, যা মুহূর্তেই শনাক্ত করছে আইন অমান্যকারীদের। শুধু শনাক্ত করাই নয়, নিয়ম ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ চলে যাচ্ছে গাড়ির মালিক বা চালকের ঠিকানায়। আর সেই নোটিশ অবহেলা করলেই এবার কপালে জুটতে পারে আদালতের সমন কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।

​গতকাল রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এতে জানানো হয়, ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও উন্নত করার লক্ষ্যে ডিএমপি বিশেষ এই উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ সংগ্রহ করে ‘ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে অটো জেনারেটেড নোটিশ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে।

​ডিএমপি জানিয়েছে, মূলত রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চালানো, যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং, লাল বাতির সিগন্যাল অমান্য করা, স্টপ লাইন অতিক্রম কিংবা উল্টো পথে গাড়ি চালানোর মতো অপরাধগুলো এখন ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। এছাড়া যত্রতত্র যাত্রী উঠিয়ে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি বা লেফট লেন ব্লক করার মতো অপরাধেও সরাসরি ডিজিটাল মামলা বা প্রসিকিউশন শুরু হয়েছে।

​এতদিন অনেকে নোটিশ পাওয়ার পরও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। তবে এখন থেকে সেই সুযোগ আর থাকছে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডিএমপি সদর দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী জরিমানা পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে এই বিচারিক প্রক্রিয়া অর্থাৎ সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

​গণবিজ্ঞপ্তিতে নাগরিকদের সতর্ক করে আরও জানানো হয়, সিসি ক্যামেরা বা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে হওয়া মামলার জরিমানা পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। নির্ধারিত ব্যাংক বা অনুমোদিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেই কেবল জরিমানা পরিশোধযোগ্য। ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি জটিলতা এড়াতে রাজধানীর চালক ও মালিকদের সচেতন হওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement