নাহিদকে আগামীর কাণ্ডারি মনে করেন ফখরুল: সম্প্রীতির উৎসবে তরুণ নেতৃত্বের প্রশংসা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা |
রাজধানীর বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ পূর্ণিমার এক স্নিগ্ধ বিকেলে রাজনীতির এক নতুন সমীকরণের আভাস পাওয়া গেল। বুদ্ধের অহিংসা ও শান্তির বাণীর সূত্র ধরে বর্তমান সময়ের সংকট নিরসনে তরুণ নেতৃত্বের ওপরই সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায় তার একটি উক্তি, যেখানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে নিজের 'সবচেয়ে প্রিয় তরুণ নেতা' হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা আর হানাহানি থেকে মুক্তি পেতে হলে তরুণদের নতুন পথ দেখাতে হবে। তিনি নাহিদ ইসলামের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, "নাহিদ আমার অত্যন্ত স্নেহের এবং প্রিয় একজন তরুণ নেতা। দেশ ও জাতির সংকটে তার মতো তরুণদের ওপরই আমরা আগামীর ভরসা রাখি। এই সাহস আর সত্যের লড়াইটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।"
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ফখরুল গৌতম বুদ্ধের দর্শনের ওপর গভীর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, পৃথিবী যখনই হিংসা, বিদ্বেষ আর যুদ্ধে কলুষিত হয়েছে, তখনই শান্তির বাণী নিয়ে মহাপুরুষদের আবির্ভাব ঘটেছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, একদিকে যখন শান্তির কথা হচ্ছে, অন্যদিকে তখন বড় বড় মারণাস্ত্র তৈরি হচ্ছে। আমেরিকা থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোতে যুদ্ধের কারখানা বাড়ছে। এই মারণাস্ত্রের প্রতিযোগিতা বন্ধ করে হিংসাকে একবাক্যে 'না' বলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলামকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখা যায়। প্রবীণ এবং নবীন নেতৃত্বের এই মেলবন্ধন উপস্থিত সবার নজর কাড়ে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামও শান্তির দর্শনে সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তব্য শেষে মির্জা ফখরুল উপস্থিত সবার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি শেষ হয় এক শান্তিময় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে, যেখানে সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে একটিই চাওয়া—শান্তি ও সাম্য