বিটিভি কি শ্বেতহস্তী? ৩০০ কোটির বাজেটে আয় মাত্র ১৫ কোটি!

 প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

বিটিভি কি শ্বেতহস্তী? ৩০০ কোটির বাজেটে আয় মাত্র ১৫ কোটি!

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা: 

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এখন জনগণের অর্থের একটি বড় বোঝায় পরিণত হয়েছে। ৩ মে রাজধানীর ধানমন্ডিতে 'বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বিটিভির এই ভয়াবহ আর্থিক চিত্র তুলে ধরেন।

​ইউনেস্কো এবং টিআইবি আয়োজিত এই আলোচনা সভায় উঠে আসে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমটির কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন। উপদেষ্টার বক্তব্যের মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

​বিশাল বাজেট বনাম নগণ্য আয়: বিটিভির বার্ষিক বাজেট যেখানে ৩২০ থেকে ৩২৫ কোটি টাকা, সেখানে প্রতিষ্ঠানটির আয় মাত্র ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা। বিপুল অংকের এই ভর্তুকি জনগণের করের টাকার অপচয় কিনা, সেই প্রশ্ন তুলেছেন খোদ উপদেষ্টা।

​খবরের গ্রহণযোগ্যতা: উপদেষ্টা মনে করেন, বর্তমান সময়ে খবরের জন্য বিটিভির ওপর জনগণের নির্ভরতা আর নেই। বেসরকারি টেলিভিশনগুলো সেই দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালন করতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

​বন্ধ করার যৌক্তিকতা: প্রয়োজনে বিটিভি বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা উঠলে তিনি জানান, তাত্ত্বিকভাবে এটি অসম্ভব কিছু নয়। তবে সরকার চায় প্রতিষ্ঠানটিকে জনগণের কল্যাণে এমনভাবে পুনর্গঠন করতে, যাতে জাতীয় টেলিভিশন হিসেবে এটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

​অতীতের বাধ্যবাধকতা: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্যাবল টিভিতে বিটিভির খবর দেখানো বাধ্যতামূলক করার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, গায়ের জোরে মানুষকে খবর দেখানো যায় না এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও জনগণের অর্থ অপচয় রোধে একই মত পোষণ করেন।

​সরকারের সমালোচনা ও গণমাধ্যম: জাহেদ উর রহমান সংবাদমাধ্যমগুলোকে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের জন্য গণমাধ্যমের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানো বোকামি।

​অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত:

​আটক সাংবাদিকদের মুক্তি: ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর আটক সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

​নারীদের নিরাপত্তায় বিশেষ সেল: সাইবার সহিংসতা থেকে নারীদের রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে।

​অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুজান ভাইজ, টিআইবি’র ইফতেখারুজ্জামানসহ দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। সকলেই একটি প্রাণবন্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement