মেধা ও মননের লড়াই: শুরু হচ্ছে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক’ উৎসব

 প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০১:৩৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

মেধা ও মননের লড়াই: শুরু হচ্ছে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক’ উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে বহুল প্রতীক্ষিত ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। দেশজুড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই উৎসবে এবার থাকছে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, কুইজ ও স্কাউটিংয়ের মতো বর্ণিল ইভেন্ট। আগামী ১৯ মে থেকে শুরু হয়ে জুন মাসজুড়ে ধাপে ধাপে দেশের আটটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে এই মেধা ও দক্ষতার লড়াই।

কারা অংশ নিতে পারবে?

অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। শিক্ষার্থীদের মেধার সুষ্ঠু মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক গ্রুপে প্রতিযোগিতা সাজানো হয়েছে।

প্রতিযোগিতার ধাপ ও সময়সূচি

প্রতিযোগিতাটি তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী:

বিদ্যালয় পর্যায়: ১৯ মে ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করে ইউনিয়ন পর্যায়ে তালিকা পাঠাতে হবে।

ইউনিয়ন পর্যায়: ১৯ থেকে ২০ মে।উপজেলা পর্যায়: ২২ থেকে ২৩ মে।জেলা পর্যায়: ৬ থেকে ৭ জুন। বিভাগীয় পর্যায়: ৮ থেকে ৯ জুন ২০২৬।

কী কী থাকছে উৎসবে?

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে ইভেন্টগুলোকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

১. ক্রীড়া: ১০০ মিটার দৌড়, দীর্ঘ লাফ, উচ্চ লাফ, ভারসাম্য দৌড় এবং অংক দৌড়।

২. সাংস্কৃতিক: কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, নৃত্য, গল্প বলা, লোকগীতি, দেশাত্মবোধক গান, রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীত, হামদ-নাত, একক অভিনয়, উপস্থিত বক্তৃতা এবং আন্তঃউপজেলা বিতর্ক প্রতিযোগিতা।

৩. কুইজ: বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান (দৈনন্দিন বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, আইসিটি ও সাম্প্রতিক বিষয়)।

সৃজনশীল বিতর্কে গুরুত্ব

এবার বিতর্ক প্রতিযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দুইজন দক্ষ শিক্ষার্থী নির্বাচন করে ক্লাস্টার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। বিতর্কের বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বয়স ও মনস্তাত্ত্বিক দিকের প্রতি খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে এবং কোনো স্পর্শকাতর বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

স্বচ্ছতা ও বাজেট ব্যবস্থাপনা

প্রতিযোগিতাটি ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রদান নীতিমালা-২০২৬’ অনুসরণ করে আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য বিদ্যালয় থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ করেছে অধিদপ্তর। বিদ্যালয় পর্যায়ে ৮ হাজার টাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩০ হাজার ৬২৫ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই আয়োজন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরির পাশাপাশি তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দেশের প্রতিটি প্রান্তের খুদে শিক্ষার্থীরা যাতে এই উৎসবে শামিল হতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement