শিক্ষাবর্ষে বড় পরিবর্তনের পদধ্বনি: ডিসেম্বরেই ফিরছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ও অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে এক আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা চূড়ান্ত করছে সরকার। দীর্ঘদিনের সেশন জট, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়া এবং উচ্চশিক্ষা স্তরে ভর্তির দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে এবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সময়সূচিতে বড় ধরনের রদবদল আনা হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে আগামী ২০২৭ সাল থেকেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক সরকারের এই মহাপরিকল্পনার কথা জানান। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু বছরের সেই সময়ে প্রায়ই কালবৈশাখী কিংবা আগাম বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দেয়, যা পরীক্ষা আয়োজনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আবার এইচএসসি শেষ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হতে হতে দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়, ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের অনিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। এই ‘গ্যাপ’ বা বিরতি কমিয়ে আনতেই মূলত ক্যালেন্ডার ঢেলে সাজানো হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টিকে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ কাঠামোর মধ্যে আনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ডিসেম্বরের মধ্যে সব ধরনের বোর্ড পরীক্ষা এবং কারিকুলামের পাঠদান শেষ করা। এতে করে একজন শিক্ষার্থী ১৬ বছর বয়সে মাধ্যমিক এবং ১৮ বছর বয়সে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে কোনো কালক্ষেপণ ছাড়াই সরাসরি জানুয়ারিতে নতুন সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখতে পারবে। এতে সেশন জটের অভিশাপ যেমন কাটবে, তেমনি দেশের শিক্ষা কাঠামোর সাথে বৈশ্বিক শিক্ষাবর্ষের সামঞ্জস্যতা আরও বাড়বে।
তবে এই পরিবর্তন কেবল সময়ের হেরফের নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে কারিকুলাম ও সিলেবাসের বড় ধরনের পরিমার্জন। মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২৭ সালকে প্রাথমিক টার্গেট হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেবাস ও ক্লাস টেস্টের কার্যক্রম শেষ করার সক্ষমতার ওপর। মন্ত্রণালয়ের কারিগরি দল বর্তমানে ২০২৬ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত একটি টেকসই রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছে।
শিক্ষাবিদরাও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও আবহাওয়াগত বাস্তবতা বিবেচনায় আনলে বছরের শেষভাগে পরীক্ষা নেওয়াটা অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত। এতে ঘূর্ণিঝড় বা বর্ষার কবলে পড়ে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে। এখন দেখার বিষয়, বিশাল এই কর্মযজ্ঞের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকার কতটা দ্রুত এই নতুন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার কার্যকর করতে পারে। তবে সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের শিক্ষা খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।