সার যাবে মাঠে, বদলাবে কৃষকের ভাগ্য: ৩৪ জেলায় গড়ে উঠছে আধুনিক ভাণ্ডার

 প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

সার যাবে মাঠে, বদলাবে কৃষকের ভাগ্য: ৩৪ জেলায় গড়ে উঠছে আধুনিক ভাণ্ডার

​নিজস্ব প্রতিবেদক:  দেশের কৃষিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার স্বপ্নে যুক্ত হচ্ছে নতুন এক মাইলফলক। একসময় সারের জন্য কৃষককে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হতো, রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো দীর্ঘ লাইনে। সেই চিরচেনা দৃশ্যপট বদলে দিতে সরকার গ্রহণ করেছে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তত্ত্বাবধানে দেশের ৩৪টি জেলায় গড়ে উঠছে অত্যাধুনিক বাফার গুদাম, যা সারের সংকট নিরসনে এক নীরব বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছে।

​প্রকল্পটির মূল দর্শন হলো—‘কৃষক যাবে না সারের কাছে, সার যাবে কৃষকের দুয়ারে’। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ১ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এর পরিধি ও গুরুত্ব বিবেচনায় বাজেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকায়। যদিও ভূমি অধিগ্রহণ ও বৈশ্বিক মহামারির কারণে কাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা ২০২৭ সাল পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে, তবে মাঠপর্যায়ে অবকাঠামো নির্মাণের চাকা এখন ঘুরছে পূর্ণ গতিতে।

​সিরাজগঞ্জ থেকে শুরু করে উত্তরের দিনাজপুর, দক্ষিণের পটুয়াখালী কিংবা উপকূলীয় জেলা ভোলা—প্রতিটি জনপদেই এখন কর্মতৎপরতা চোখে পড়ার মতো। ৩৩টি জেলায় ইতিমধ্যে জমি বুঝে পাওয়ার পর ২০টি স্থানে অবকাঠামো মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। এসব গুদামের মোট ধারণক্ষমতা হবে ৫ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। ১০ হাজার থেকে শুরু করে ২৫ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত চারটি ভিন্ন আকৃতিতে নির্মিত হচ্ছে এই ভাণ্ডারগুলো।

​বর্তমানে দেশে ইউরিয়া সারের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে বিসিআইসির নিজস্ব গুদামগুলোতে ধারণক্ষমতা মাত্র ৩ লাখ টনের কিছু বেশি। ফলে বিপুল পরিমাণ সার খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার বা জমাট বাঁধার ঝুঁকিতে থাকে। নতুন এই প্রকল্প শেষ হলে সেই দুশ্চিন্তার অবসান ঘটবে। বিএডিসির অস্থায়ী গুদামগুলোর ওপর চাপ কমার পাশাপাশি সারের ‘পিক সিজনে’ অন্তত ৮ লাখ মেট্রিক টন মজুদ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

​প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জমির শ্রেণী পরিবর্তন বা পরিবেশ ছাড়পত্রের মতো আমলাতান্ত্রিক জটিলতাগুলো কাটিয়ে কাজ এখন অনেকখানি এগিয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রতিটি নির্মাণাধীন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিবিড় তদারকি আর বিসিআইসির বিশেষ মনিটরিং কমিটির তৎপরতায় গুণগত মান বজায় রেখেই এগিয়ে চলছে এই কর্মযজ্ঞ।

​নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে কেবল পরিবহন খরচই কমবে না, বরং সঠিক সময়ে সারের সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় ফসলের উৎপাদন বাড়বে বহুগুণ। এটি কেবল একটি গুদাম নির্মাণ প্রকল্প নয়, বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ভিত মজবুত করার এক কারিগরি কৌশল। আধুনিক এই সংরক্ষণাগারগুলো চালু হলে গ্রাম বাংলার মেঠোপথে কৃষকের মুখে ফুটবে এক চিলতে নিশ্চিন্তের হাসি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement