পদ্মায় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ: ঢাকায় গ্রেফতার কুষ্টিয়ার কুখ্যাত চরমপন্থি নেতা ‘চিকন আলীম’
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও কুষ্টিয়া
পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন কেন্দ্র করে নৌপুলিশের ওপর দুঃসাহসিক গুলিবর্ষণের ঘটনায় অবশেষে ধরা পড়লেন মামলার প্রধান আসামি আব্দুল আলীম ওরফে চিকন আলীম। শনিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। কুষ্টিয়ার কুখ্যাত চরমপন্থি নেতা ‘কালু বাহিনীর’ সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে পরিচিত আলীম দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলপথ ও চরাঞ্চলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিলেন।
গত ২২ এপ্রিল রাতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুরঘাট সংলগ্ন পদ্মা ও গড়াই নদীর মোহনায় এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। লক্ষীকুণ্ডা নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল যখন অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযানে নামে, তখন একটি দ্রুতগামী স্পিডবোটে করে আসা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে শর্টগানের গুলি ছুড়তে শুরু করে। বৃষ্টির মতো ছোড়া গুলিতে নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলামসহ চার পুলিশ সদস্য এবং নৌকার মাঝি গুরুতর আহত হন। এই চাঞ্চল্যকর হামলার পর পুরো এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়।
ঘটনার পরপরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান কালু বাহিনীর অন্যতম প্রধান সহযোগী আব্দুল আলীম। র্যাব সূত্র জানায়, গ্রেফতার এড়াতে তিনি কুষ্টিয়া ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং ক্রমাগত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকেন। তবে গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে র্যাবের একটি যৌথ দল শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ডিএমপির কাফরুল থানাধীন মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশ কোয়ার্টার সংলগ্ন ফুট ওভারব্রিজের নিচ থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব-১২ ও র্যাব-৪ এর সদস্যরা।
আলীমের পরিচয় নিশ্চিত করে র্যাব জানায়, ৪৪ বছর বয়সী আব্দুল আলীম কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দয়ারামপুর ঘোষপাড়া এলাকার মৃত বেলায়েত ওরফে বিলাইয়ের ছেলে। নব্বইয়ের দশকের দুর্ধর্ষ চরমপন্থি সংগঠন ‘জাসদ গণবাহিনী’র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সামরিক প্রধান (বর্তমানে পলাতক) কালুর হয়ে তিনি এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন। বিশেষ করে কুমারখালী, খোকসা ও পদ্মা নদীর জলসীমানায় চাঁদাবাজি, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং আধিপত্য বিস্তারে তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী সক্রিয় ছিল।
নৌপুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় লক্ষীকুণ্ডা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক খন্দকার শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে যে মামলাটি দায়ের করেছিলেন, আলীম সেই মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই হামলার পরিকল্পনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব। তাকে কুষ্টিয়ার সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং বাহিনীর অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।