উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঝড়: নৌবন্দরে সতর্কতা

 প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঝড়: নৌবন্দরে সতর্কতা

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​বৈশাখের তপ্ত দুপুরের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের আকাশের নীল রং ধূসর হয়ে আসছে। রোববারের (৩ মে) সকালটা সাধারণ অন্য দিনগুলোর মতো শান্ত নাও হতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভোরের আলো ফোটার আগেই দেশের উপকূলীয় এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে ধেয়ে আসতে পারে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়। বিশেষ করে সকাল ৯টার মধ্যে খুলনা থেকে শুরু করে কক্সবাজার পর্যন্ত এক বিস্তীর্ণ জনপদে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

​আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, শনিবার রাত থেকেই বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতা বাড়তে শুরু করেছে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা মেঘপুঞ্জ ঘনীভূত হয়ে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রচণ্ড বেগে বয়ে যেতে পারে। এই ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ সামাল দিতে ওই এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

​ঝড়ের এই দাপট কেবল উপকূলীয় জেলাগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশের অন্যান্য অঞ্চলগুলোতেও ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাসহ ময়মনসিংহ, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় মাঝরাতের পর থেকেই বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ জনজীবনকে কিছুটা বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।

​তবে এই ঝোড়ো আবহাওয়া কেবল একদিনের অতিথি নয়। আবহাওয়া দপ্তর ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আগামী পাঁচ দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির এই ধারা বজায় থাকবে। কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের ফলে নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে এবং নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। কালবৈশাখীর এই মৌসুমে আকস্মিক বজ্রপাত থেকে বাঁচতে জনসাধারণকে খোলা জায়গা এড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্কতার সাথে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

​সব মিলিয়ে, বৈশাখের এই মেঘলা আকাশ আর গুমোট গরমের আড়ালে এক বড় ধরনের প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রকৃতি। আগামী কয়েক দিন ছাতা আর রেইনকোট সাথে রাখাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement