পশ্চিমবঙ্গের ভোটে সমীক্ষকদের ‘মৌনতা’: নেপথ্যে কি কেন্দ্রের চাপ না কি হারের ভয়?

 প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৮:২১ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

পশ্চিমবঙ্গের ভোটে সমীক্ষকদের ‘মৌনতা’: নেপথ্যে কি কেন্দ্রের চাপ না কি হারের ভয়?

ডেক্স নিউজ:

​পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে যখন গোটা দেশ উত্তাল, তখন এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় জনমত সমীক্ষক সংস্থাগুলো। সাধারণত ভোটের শেষ দফা শেষ হতেই বুথফেরত জরিপ বা 'এক্সিট পোল'-এর বন্যায় ভেসে যায় সংবাদমাধ্যম। কিন্তু এবার ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’, ‘সি ভোটার’ কিংবা ‘সিএসডিএস’-এর মতো নামী প্রতিষ্ঠানগুলো পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট আসন সংখ্যা বা জয়-পরাজয়ের হিসাব দিতে রাজি হয়নি।

​কেন এই নীরবতা?

​সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি দেওয়া হলেও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’র কর্ণধার প্রদীপ গুপ্ত জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট নিয়ে মুখ খুলতে চাননি। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) ফলে রাজ্যে এক ধরনের ‘ভয়ের পরিবেশ’ তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি। পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তাঁরা চূড়ান্ত কোনো পূর্বাভাস দেননি।

​অন্যদিকে, ‘সি ভোটার’-এর পক্ষ থেকে যশোবন্ত দেশমুখ ও সুতনু গুরু জানিয়েছেন, রাজ্যে লড়াই এবার অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি। একদিকে যেমন তীব্র সরকারবিরোধী হাওয়া রয়েছে, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও নারী ভোটারদের সমর্থন অটুট। এই দ্বিমুখী স্রোতের কারণে আসনের নিখুঁত হিসাব দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

​মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগ

​মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নীরবতা ও অন্যান্য সংস্থার দেওয়া জরিপকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে মোদি-শাহ জুটির প্রত্যক্ষ চাপ। তিনি বলেন:

​"বিরোধীদের মনোবল ভেঙে দিতে এবং শেয়ারবাজারের ধস আটকাতে সমীক্ষক সংস্থাগুলোকে দিয়ে জোর করে বিজেপির জয় দেখানো হচ্ছে। আসল সত্য (তৃণমূলের জয়) দেখালে বাজারে ধস নামত, যা কেন্দ্র চায় না।"

​মমতা আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০১৬ থেকে ২০২৪—বারবার সমীক্ষা সংস্থাগুলো বিজেপিকে এগিয়ে রাখলেও শেষ পর্যন্ত তৃণমূলই জয়ী হয়েছে। এবারও তাঁর দল ২২৬ থেকে ২৩০টি আসন পাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদী।

​সতর্ক তৃণমূল শিবির: আজ বিশেষ ভার্চ্যুয়াল বৈঠক ​ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ‘কারসাজি’ রুখতে কোমর বেঁধে নামছে ঘাসফুল শিবির। আজ শনিবার বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সমস্ত কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করবেন।

​কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন থেকেই এই বৈঠক হবে। গণনা কেন্দ্রে এজেন্টরা কীভাবে প্রতিটি ভোট নজরে রাখবেন এবং বিজেপির সম্ভাব্য 'কৌশল' মোকাবিলা করবেন, সে বিষয়ে কড়া নির্দেশিকা দেওয়া হবে এই সভা থেকে।

​একনজরে বর্তমান পরিস্থিতি:​বিজেপিকে এগিয়ে রেখেছে: ৫টি সংস্থা।​তৃণমূলকে এগিয়ে রেখেছে: ২টি সংস্থা।

​নীরবতা পালন: অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া, সি ভোটার (আসন সংখ্যায়) ও সিএসডিএস।

​মুখ্যমন্ত্রীর দাবি: ২৩০ পর্যন্ত আসন পেতে পারে তৃণমূল।ভোটের ফল প্রকাশের আগে সমীক্ষকদের এই ‘পিছুটান’ কি বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত, না কি স্রেফ পেশাদারিত্বের সতর্কতা—তা স্পষ্ট হবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।

Advertisement
Advertisement
Advertisement