কালবৈশাখীর তাণ্ডব ৪৮ ঘণ্টা: আট বিভাগে বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির সতর্কতা

 প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

কালবৈশাখীর তাণ্ডব ৪৮ ঘণ্টা: আট বিভাগে বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির সতর্কতা

ডেক্স ‍ নিউজ:

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের ফলে তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেয়ে জনজীবনে স্বস্তি ফিরলেও আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পুনরায় কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ বিভাগে দফায় দফায় ঝড়ো আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ১২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে এবং তাপমাত্রা নেমে প্রায় ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করছে। তবে এই পরিস্থিতি স্থায়ী না হয়ে নতুন করে অস্থির আবহাওয়ার সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিভাগভিত্তিক সম্ভাব্য পরিস্থিতি

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, খুলনা বিভাগে বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টার মধ্যে তীব্র বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রথমে দক্ষিণাঞ্চলে শুরু হয়ে পরবর্তীতে উত্তরাঞ্চলে বিস্তৃত হতে পারে। বরিশাল বিভাগে রাত ৮টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে সব জেলায় কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে দুই দফায় বৃষ্টিপাত হতে পারে—দুপুর ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রথম দফা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় তীব্র ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগে রাত ১০টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত ভারি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা বিভাগে সন্ধ্যার পর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাত ৮টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে বজ্রসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে রংপুর, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে রাতের দিকে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।

আঞ্চলিক প্রভাব

একই সময়সীমায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা রাজ্যেও অনুরূপ কালবৈশাখী পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে বলে জানা গেছে।

পূর্বাভাসের বিস্তৃতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান কালবৈশাখী পরিস্থিতি আগামী ৪ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় ঝড়, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তীতে ৫ মে থেকে আবহাওয়ার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে।

সতর্কতা ও করণীয়

সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে—

  • বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, জলাশয় ও উঁচু স্থান এড়িয়ে চলতে হবে
  • প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়া উত্তম
  • বৈদ্যুতিক সংযোগ ও মোবাইল চার্জার ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে
  • কৃষকদের ফসল ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে

প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকি হ্রাসে সকলকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকার বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনসাধারণকে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হলো।

Advertisement
Advertisement
Advertisement