সমমর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিবেশী সম্পর্ক চাই, দাসত্ব নয়: সংসদে গয়েশ্বর

 প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

সমমর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিবেশী সম্পর্ক চাই, দাসত্ব নয়: সংসদে গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে—এমন জোরালো অবস্থান তুলে ধরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশ সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চায়, তবে সেই সম্পর্ক কখনোই ‘স্বামী-স্ত্রীর’ মতো নির্ভরশীল বা দাসত্বের পর্যায়ে যেতে পারে না।”

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। বক্তব্যে তিনি জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাকে পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

গয়েশ্বর বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের উচিত সমতা, মর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। “অর্থনৈতিক সহযোগিতা দরকার, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নয়”—যোগ করেন তিনি।


জিয়ার দর্শন ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ

বক্তৃতায় জিয়াউর রহমান-এর রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সমালোচনা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এবং জাতীয় সংকটে আপসহীন অবস্থানই প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয়। তিনি দাবি করেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার আহ্বান জাতিকে আত্মরক্ষার বাইরে গিয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

বর্তমান রাজনীতি ও গণতন্ত্র

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরও “প্রকৃত মুক্তি” এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণে অতীতের শিক্ষা ও বর্তমান বাস্তবতার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-র নেতৃত্বের প্রশংসা করে গয়েশ্বর বলেন, গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি এবং জনগণের কাছে “মাদার অব ডেমোক্রেসি” হিসেবে পরিচিত। তিনি ১/১১-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, দুঃসময়ে তৃণমূল নেতাকর্মীরাই দলের শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

আন্দোলন ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি কোনো একক দলের অর্জন নয়; বরং বিভিন্ন স্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ফল। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দলটি দ্রুত এই আন্দোলনে সমর্থন দেয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে গয়েশ্বর বলেন, এসব সংগ্রামের মূল ছিল বঞ্চনা থেকে মুক্তি। তবে বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, “অতীতকে স্মরণ রেখে বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোই আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

দলীয় কর্মীদের প্রতি আহ্বান

বক্তৃতার শেষাংশে বিএনপির প্রতিষ্ঠার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আদর্শিক রাজনীতিই হওয়া উচিত দলের মূল ভিত্তি। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, কেবল নেতাদের নাম উচ্চারণ নয়, তাদের আদর্শ অনুসরণ করেই প্রকৃত দেশপ্রেম প্রমাণ করতে হবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement