মে মাসেই হাম নিয়ন্ত্রণে আসার আশা, সারাদেশে জোরদার টিকাদান কার্যক্রম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

মে মাসেই হাম নিয়ন্ত্রণে আসার আশা, সারাদেশে জোরদার টিকাদান কার্যক্রম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানী ঢাকায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, চলমান হাম পরিস্থিতি আগামী মে মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী। এ লক্ষ্যে দেশের শতভাগ শিশুকে দ্রুত হামের টিকার আওতায় আনার জন্য জোরালো কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শ্যামলী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের শতভাগ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং অনেক এলাকায় শতভাগ কভারেজ অর্জিত হয়েছে। যেসব ৩০টি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল, সেখানে বর্তমানে নতুন করে কোনো হাম রোগী শনাক্ত হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। মূলত ৫ মে সারাদেশে কর্মসূচি শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও তা এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকেই কার্যক্রম শুরু করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত প্রায় ছয় বছর ধরে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি ছিল, যার ফলে শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বেড়ে যায়। বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে এই ঘাটতি পূরণে কাজ করছে। এ কার্যক্রমে UNICEF, Gavi, World Bank এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের আক্রান্ত করে। টিকাদানই এর সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা। সময়মতো দুই ডোজ টিকা গ্রহণ করলে প্রায় ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রে সুরক্ষা পাওয়া যায়।

এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মন্ত্রী জানান, সম্ভাব্য রোগীর চাপ মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত রোগী সামাল দিতে অস্থায়ী তাঁবুর ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। শুক্রবার (১ মে) থেকে রাজধানীর বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি প্লে-গ্রাউন্ডে এসব তাঁবু স্থাপন শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই না ডেঙ্গু রোগী বাড়ুক। চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের আছে, তবে প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনগুলোকে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জমে থাকা পানি অপসারণে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুবিধা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়ানো হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement