স্মার্টকার্ডে হকার ব্যবস্থাপনা: কিউআর কোড স্ক্যানে মিলবে ব্যবসাস্থলের তথ্য
রিপোর্টার:
রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০০ জন হকারকে পুনর্বাসনের আওতায় এনে তাদের মধ্যে কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এই কার্ড স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট হকারের নির্ধারিত ব্যবসাস্থল ও পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য জানা যাবে—যা নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন এক ডিজিটাল উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে নগরভবনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। তিনি জানান, মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার হকারদের মিরপুর-১৩-এ বিআরটিএ কার্যালয়ের বিপরীত পাশে এবং মিরপুর-১ এলাকার হকারদের গাবতলী কাঁচাবাজারে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
প্রশাসক বলেন, পুনর্বাসনের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলো এমনভাবে নির্বাচন করা হয়েছে যাতে সড়কে যানজট কমে এবং হকাররা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। ডিজিটাল স্মার্টকার্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট হকারের তথ্য সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে, ফলে অবৈধ দখল, অনিয়ম ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পূর্বে উত্তর সিটির ছয়টি খেলার মাঠে হকার পুনর্বাসনের পরিকল্পনা থাকলেও মাঠগুলোর খেলাধুলার উপযোগিতা বিবেচনায় সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়েছে। এর পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থায়ী ‘হকার্স মার্কেট’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানান, এই ডিজিটাল পরিচয়পত্র ব্যবস্থা নগর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং হকারদের একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই প্রকল্প আরও বিস্তৃত করে উত্তর সিটির অন্যান্য এলাকাতেও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান দাবি করেন, হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করা হয়নি; বরং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় ও মানবিক আচরণের মাধ্যমেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।