এসির ফেলে দেওয়া পানি এখন সম্পদ: জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্ভাবনে পূরণ হচ্ছে ৬৭% পানির চাহিদা
স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর কাকরাইলস্থ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে এসির ফেলে দেওয়া পানি পুনঃব্যবহার করে পানির চাহিদা পূরণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে ভবনটির মোট পানির চাহিদার প্রায় ৬৭ শতাংশ বর্তমানে এসি থেকে সংগৃহীত ও পরিশোধিত পানি দিয়েই পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একদল দক্ষ প্রকৌশলীর গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে এ প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। এ বিষয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ও গবেষক ড. সুশান্ত রায় জানান, ২০২৪ সালে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ দীর্ঘ এক বছরের গবেষণা ও পরীক্ষার মাধ্যমে ২০২৫ সালে সফলতায় পৌঁছায়।
তিনি বলেন, ভবনটিতে স্থাপিত ২৫০টিরও বেশি এসি থেকে পূর্বে নির্গত পানি অপচয় হয়ে পরিবেশ ও অবকাঠামোর ক্ষতি করত। সেই পানি সংগ্রহ ও পুনঃব্যবহারের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, যা বর্তমানে কার্যকর ফল দিচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী গোলাম রাব্বী জানান, ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে এসির পানি পাইপলাইনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সংরক্ষণ ট্যাংকে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত ফিল্টারিং ও শোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানি ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণের জন্য ভূগর্ভস্থ রিজার্ভ ট্যাংকের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, একটি আড়াই টনের এসি থেকে প্রতি ৪০ মিনিটে গড়ে প্রায় দেড় লিটার এবং এক টনের এসি থেকে প্রায় এক লিটার পানি পাওয়া যায়। এ হিসাব অনুযায়ী, ভবনটির ২৫০টি এসি থেকে বছরে আনুমানিক ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬০০ লিটার পানি সংগ্রহ সম্ভব, যা থেকে বছরে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে।
পানির গুণগত মান সম্পর্কে ড. সুশান্ত রায় জানান, পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণে এ পানি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড পূরণ করেছে। এতে আর্সেনিকের মাত্রা ০.০০১ এবং ক্লোরাইডের পরিমাণ ১০ মিলিগ্রাম পাওয়া গেছে, যা নিরাপদ সীমার মধ্যে রয়েছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানি ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধন করা হচ্ছে।
বর্তমানে ভবনের প্রায় ৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ পথচারীরাও এ পানি পান করছেন। পাশাপাশি এটি টয়লেট, বাগান পরিচর্যা ও যানবাহন পরিষ্কার করার কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পানি সংস্থার কংগ্রেসে এ উদ্ভাবন উপস্থাপন করা হলে তা ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। গবেষণা দলটি তাদের এ সাফল্য আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রকৌশলী গোলাম রাব্বী বলেন, এ প্রযুক্তি দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি বহুতল ভবনে সম্প্রসারণ করা গেলে পানির সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
মাত্র ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ প্রকল্প দেশের পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে এবং প্রমাণ করেছে যে উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোগের মাধ্যমে বর্জ্য সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।