সংবাদ শিরোনাম

জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ

 প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মোবাইল   অ্যাপভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ

ডেক্স নিউজ ,ঢাকা, ২৬ চৈত্র (৯ এপ্রিল): 

দেশব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা আনতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ নামক একটি অ্যাপ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। 

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী একথা জানান। অ্যাপটি প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল মালিক/চালকদের ব্যবহারের জন্য শুধুমাত্র ঢাকার দু’টি ফিলিং স্টেশনে (ট্রাষ্ট, তেজগাঁও; সোনারবাংলা, আসাদগেট) উন্মুক্ত করে পাইলটিং করা হচ্ছে। সফল পাইলটিংয়ের পর পর্যায়ক্রমে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপটি সারা দেশের সকল যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

ব্রিফিংকালে জানানো হয়, বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার কারণে বিলম্বসহ বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পর্যাপ্ত জালানি সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। আবার একই ব্যক্তি একাধিকবার এসে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফুয়েল সংগ্রহ করছেন, যা জ্বালানির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তাবিত এই ডিজিটাল সিস্টেমটি বিতরণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণরূপে অটোমেশন এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের আওতায় আনবে। এই সিস্টেমের সাথে বিআরটিএ এর কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সংযোগ থাকবে, ফলে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থা একটি স্বচ্ছ মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। স্মার্টফোন না থাকলেও নাগরিকরা fuelpass.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন এবং কিউআর কোডটি বিভিন্ন ফরম্যাটে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।

এই সিস্টেমের মাধ্যমে ফিলিং স্টেশন মালিকগণ ডিজিটাল মাধ্যমে জ্বালানির বরাদ্দ এন্ট্রি দিয়ে ভোক্তাদের ফুয়েল বিতরণ করতে পারবেন; কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে একজন চালক ফুয়েল গ্রহণ করতে পারবেন এবং একইসাথে নিজের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দ দেখতে পারবেন; কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণের অবস্থা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, অনিয়ম ও অপচয় হ্রাস পাবে এবং সংকটকালীন সময়ে কার্যকরভাবে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আশা করছে, সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সহযোগিতায় এই আধুনিক ব্যবস্থাটি বৃহৎ পরিসরে দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, ডিজেলের কোনো সংকট নেই। ৯ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত বর্তমানে ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৪৩ মেট্রিক টন ডিজেল মজুত আছে। পেট্রোল ১৬ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন, অকটেন ৯ হাজার ৫৬৯ মেট্রিক টন মজুত আছে। তবে প্যানিক বায়িং এখনও বন্ধ হয়নি, যার প্রভাব পড়ছে ফিলিং পাম্পে। যথানিয়মে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকার আগামী দুই মাসের জ্বালানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছে।