বিশ্বের নজর ইসলামাবাদে: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক ঘিরে উত্তেজনা
ডেক্স নিউজ:
মধ্যপ্রাচ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও আঞ্চলিক পরিস্থিতি অস্থির রয়ে গেছে। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) অথবা শনিবার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৈঠকের নির্দিষ্ট সময়সূচি নিশ্চিত হয়নি।
লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। ইরান লেবাননে চলমান হামলাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, এ অবস্থায় শান্তি আলোচনা যৌক্তিক নয়।
অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
এদিকে তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। চীন লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
সম্ভাব্য বৈঠকের আলোচ্যসূচির মধ্যে হরমুজ প্রণালি ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসতে পারে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ইরানের প্রস্তাবনায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস, ইউরেনিয়াম মজুদ হস্তান্তর এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমা নির্ধারণের বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কার্যকর কোনো চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে আলোচনায় অগ্রগতি কঠিন হবে বলে উল্লেখ করেছেন।
বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরে দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেরেনা হোটেলসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে কিছুটা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের অবস্থান পরস্পরবিরোধী হওয়ায় আলোচনায় সমঝোতায় পৌঁছানো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।