সংবাদ শিরোনাম

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার প্রত্যাশা সংস্কৃতি মন্ত্রীর

 প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৫ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার প্রত্যাশা সংস্কৃতি মন্ত্রীর

ঢাকা, ২৪ ফাল্গুন (৯ মার্চ):

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সাথে আজ সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে ভারতীয় হাইকমিশনার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের জন্য মন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে দু’দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরো সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রত্নতত্ত্ব, লোকসংস্কৃতি, সৃজনশীল শিল্প, জাদুঘর ও গ্রন্থাগার কার্যক্রমে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিময় কর্মসূচি জোরদার করা যেতে পারে। তিনি পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপন, লালন শাহের দর্শন ও সংগীতধারা, কুঠিবাড়ি এবং হাসন রাজার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতি আরো শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, ভারতের আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়সহ এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনেক মিল রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশই প্রাচীন সভ্যতার ধারক হিসেবে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য বহন করছে।

ভারতীয় হাইকমিশনার এ সময় টেক্সটাইল আর্ট, জাদুঘর কার্যক্রম, থিয়েটার এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা ও সংরক্ষণে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশেষ করে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের পুনরুদ্ধার (Restoration) ও সংরক্ষণ (Conservation) কার্যক্রমে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া দুই দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের (Cultural Icon) স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই বাংলার লেখক সম্মিলন, পয়েট্রি কনফারেন্স এবং শিক্ষাভিত্তিক ও যুবসংস্কৃতি কার্যক্রমের বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের তরুণদের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরো জোরদার করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণ একই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক। তিনি সংগীত, শিল্পকলা ও লোকসংস্কৃতির ক্ষেত্রে শিল্পী ও সাংস্কৃতিক দলের পারস্পরিক বিনিময় বৃদ্ধি এবং দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মফিদুর রহমান, যুগ্ম সচিব ইলিয়া সুমনা এবং ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।