রাজশাহী পুঠিয়া রাজবাড়ীর বর্ণনা
পুঠিয়া রাজবংশের সূচনা হয় মুঘল সম্রাট আকবরের সময় (১৫৫৬–১৬০৫)। সুবেদার মানসিংহের সহায়তায় বৎসাচার্য নামক এক ব্রাহ্মণ লস্কর খান নামক আফগান শাসককে পরাজিত করতে সাহায্য করেন। এর পুরস্কারস্বরূপ বৎসাচার্যের পুত্র পীতাম্বর কে জমিদারী প্রদান করা হয়। পরে রাজা নীলাম্বর ও তার বংশধররা রাজবংশের শাসন চালিয়ে যান। ১৮৯৫ সালে মহারানী হেমন্ত কুমারী দেবী ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্য শৈলীতে দ্বিতল রাজপ্রাসাদটিও নির্মাণ করেন, যা বর্তমানে পুঠিয়া রাজবাড়ি নামে পরিচিত।
স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য
রাজবাড়ি টি প্রায় ৪.৩০ একর জমির উপর নির্মিত।
দোতলা ভবনটি ইট, সুরক্ষিত, লোহা ও চুন দিয়ে তৈরি। স
ভবনের সম্মুখভাগে স্তম্ভ, অলংকরণ, কাঠের কাজ ও ফুল-লতাপাতার চিত্রকর্ম রয়েছে।
নিরাপত্তার জন্য রাজবাড়ি চারপাশে পরিখা খনন করা হয়েছিল।
পুঠিয়ার মন্দির সমূহ স
পুঠিয়ায় মোট ১৩ টি মন্দির রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে ১৪ টি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে।
১. বড় শিব মন্দির
১৮২৩ সালে রানী ভূবনময়ী দেবী নির্মাণ করেন।
১৪.৩০ মিটার পরিমাপের মন্দিরটি ৪ মিটার উঁচু মঞ্চের উপর নির্মিত।
মন্দিরটির একটি মূল চূড়া ও চারপাশে ৪ টি ছোট চূড়া রয়েছে।
২. গোবিন্দ মন্দির
১৮ শ শতকে প্রেম নারায়ণ রায় নির্মাণ করেন।
মন্দিরটির দেয়ালে পোড়ামাটির ফলকে দেব-দেবী, যুদ্ধের দৃশ্য ও ফুলের নকশা খোদাই করা আছে।
৩. দোল মন্দির
১৭৭৮ সালে রাজা ভুবেন্দ্র নারায়ণ রায় নির্মাণ করেন।
চারতলা বিশিষ্ট মন্দিরটির নিচতলায় ২৮ টি প্রবেশপথ রয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে 'হাজারদুয়ারিতে' নামে পরিচিত।
৪. জগন্নাথ (রথ) মন্দির
১৮২৩ সালে রানী ভূবনময়ী নির্মাণ করেন।
দোতলা কাঠামোতে প্রশস্ত বারান্দা ও আটটি পিলার রয়েছে।
৫. ছোট আহ্নিক মন্দির
আয়তাকার নির্মিত মন্দিরটি ১৮ শ শতকে প্রেম নারায়ণ কর্তৃক নির্মিত।
মন্দিরের ছাদ দোচালা আকৃতির এবং আংশিক বাঁকানো।
৬. ছোট শিব মন্দির
বর্গা কারে নির্মিত ছোট আকৃতির মন্দিরটি পুঠিয়া-আড়ানী সড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত।
মন্দিরের কার্ণিশগুলো আংশিক বাঁকানো এবং পোড়ামাটির অলংকরণ দ্বারা সজ্জিত।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান
১. হাওয়া খানা
পুকুরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত দ্বিতল ইমারত।
রাজবাড়ি সদস্যরা অবকাশ যাপন ও পুকুরের খোলা হাওয়া উপভোগের জন্য এটি ব্যবহার করতেন।
২. কৃষ্ণপুর মন্দির (সালামের মঠ)
কৃষ্ণপুর গ্রামে অবস্থিত গোবিন্দ মন্দির।
প্রবেশপথের উপরে ও দুপাশে পোড়ামাটির ফলক দ্বারা সজ্জিত।
দর্শনার্থীদের জন্য সময়সূচি ও তথ্য
প্রবেশ সময়: সকাল ৯:০০ – সন্ধ্যা ৬:০০ (প্রতিদিন)
টিকিট মূল্য: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ২০ টাকা; বিদেশিদের জন্য ২০০ টাকা (প্রায়)
যোগাযোগ: উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পুঠিয়া; ফোন: ০৭২২৮-৫৬১২১; মোবাইল: ০১৭৮৬৭০৮৪৪৪
যাতায়াত ব্যবস্থা
বাস: ঢাকা থেকে রাজশাহী গ্রামীণ বাসে পুঠিয়া নামা যায়।
ট্রেন: ঢাকা থেকে রাজশাহী বা নাটোর পর্যন্ত ট্রেনে এসে সেখান থেকে সড়কপথে পুঠিয়া যাওয়া যায়।
স্থানীয় পরিবহন: পুঠিয়া বাজার থেকে অটোরিকশা বা ভ্যানে করে রাজবাড়ি ও মন্দির সমূহে পৌঁছানো যায়।