বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়: এবার তিন দেশে তিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

 প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়: এবার তিন দেশে তিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই এক মঞ্চে বিশ্বের মিলনমেলা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ সেই পরিচিত ধারা ভেঙে ইতিহাসের নতুন দুয়ার খুলতে যাচ্ছে। প্রায় এক শতাব্দীর বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবারই প্রথম উদ্বোধনী আয়োজন হবে তিনটি ভিন্ন দেশে, তিনটি আলাদা শহরে।

এর আগে ২০০২ সালে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু তখনও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সীমাবদ্ধ ছিল একটিমাত্র শহরে। এবার যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উদ্বোধনী উৎসবের পরিসরও।

মেক্সিকো সিটি, টরন্টো এবং লস অ্যাঞ্জেলেস—এই তিন শহর আলাদা আয়োজনে বিশ্বকাপকে বরণ করে নেবে। প্রতিটি অনুষ্ঠানেই তুলে ধরা হবে স্বাগতিক দেশগুলোর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের অনন্য রূপ।

প্রথম পর্বের আয়োজন বসবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১১টায় শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এর দেড় ঘণ্টা পর মাঠে নামবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

পরদিন একই আবহে টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হবে কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই আয়োজনে কানাডার ইতিহাস ও জাতীয় অর্জনের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরা হবে। এরপর রাত ১টায় মাঠে গড়াবে কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ম্যাচ।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজন দেখতে ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা করতে হবে শনিবার ভোর পর্যন্ত। লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টায় শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আর সকাল ৭টায় মুখোমুখি হবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ে।

শাকিরার প্রত্যাবর্তনে বাড়তি উন্মাদনা

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে বৈশ্বিক আগ্রহের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিলেন পপ তারকা শাকিরা। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তার পরিবেশিত ‘ওয়াকা ওয়াকা’ আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

সেই শাকিরাই এবার আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে ফিরছেন। মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী আয়োজনে তিনি নাইজেরীয় শিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে পরিবেশন করবেন বিশ্বকাপের সরকারি গান ‘ডাই ডাই’।

এ ছাড়া মঞ্চে থাকবেন আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনের আরও অনেক জনপ্রিয় শিল্পী। তাদের মধ্যে রয়েছেন আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, মানা, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস ও দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা টাইলা।

তিন শহর, তিন রকম আয়োজন

মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠানে প্রাধান্য পাবে দেশটির আদিবাসী সংস্কৃতি, লোকজ শিল্প ও ঐতিহ্যবাহী কাগজশিল্পের উপস্থাপনা। অনুষ্ঠানটির দৈর্ঘ্য হতে পারে ১৬ থেকে ১৭ মিনিট।

টরন্টোর আয়োজনে থাকছে বিশেষ কাউন্টডাউন ও কানাডার ঐতিহাসিক অর্জনের প্রদর্শনী। সেখানে পরিবেশনা করবেন অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী সঞ্জয়সহ আরও অনেকে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজন করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এক বর্ণাঢ্য শো। বিশাল ভিজ্যুয়াল প্রোডাকশন ও গল্পভিত্তিক উপস্থাপনার পাশাপাশি মঞ্চে দেখা যাবে কেটি পেরি, ফিউচার, অ্যানিত্তা, লিসা, রেমা ও টাইলারকে।

প্রস্তুত মেক্সিকো সিটি

বিশ্বকাপের উদ্বোধনকে ঘিরে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে মেক্সিকো সিটি। বিশেষ দিনটি উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক সরকারি কর্মীকে দেওয়া হয়েছে বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ, যাতে নাগরিকরা উৎসবের আবহে অংশ নিতে পারেন।

ফুটবলের শক্তিকে উদযাপনের বার্তা

তিনটি অনুষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন রূপে সাজানো হলেও মূল দর্শন একটাই—ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক সীমানার পার্থক্য ভুলে বিশ্ববাসীকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলার ফুটবলের অনন্য ক্ষমতাকে উদযাপন করা।

এই মহাযজ্ঞের সৃজনশীল তত্ত্বাবধানে রয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রযোজক মার্কো বালিচ, যিনি অলিম্পিকের একাধিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের নেপথ্য কারিগর হিসেবে পরিচিত।

বাংলাদেশের দর্শকরা বিটিভি, টি-স্পোর্টস ও সময় টিভিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি মাই রবি অ্যাপ, টফি এবং বায়োস্কোপ প্ল্যাটফর্মেও সরাসরি দেখা যাবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের খেলা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement