শিক্ষায় বিনিয়োগ হবে জিডিপির ৫ শতাংশ: দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে সরকারের মহাপরিকল্পনা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলের সেমিনার কক্ষ তখন মুখরিত আগামীর স্বপ্নজল্পনায়। ইউনিসেফ আয়োজিত ‘শ্রেণিকক্ষে উদ্ভাবনী ধারা শক্তিশালীকরণ’ বিষয়ক এই সেমিনারে প্রধান অতিথির আসনে বসে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন শোনালেন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভোল বদলে দেওয়ার এক সাহসী রূপরেখা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কেবল গৎবাঁধা শিক্ষা নয়, বরং বিশ্বমানের দক্ষ মানবপুঁজি তৈরি করতে সরকার দেশের মোট জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বক্তব্যের শুরুতেই শিক্ষামন্ত্রী কিছুটা স্মৃতিচারণ ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ টেনে আনেন। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, বিগত সরকারগুলোর আমলে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের চিত্রটি ছিল বেশ হতাশাজনক, যা কখনোই দেড় শতাংশের গণ্ডি পার হতে পারেনি। সেই স্থবিরতা কাটিয়ে বর্তমান সরকার শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা এখন সময়ের দাবি।
শিক্ষামন্ত্রী পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ডিজিটাল ক্লাসরুম তৈরির ক্ষেত্রে বিগত সরকারের উদ্যোগগুলো কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল; সেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ব্যাপক ঘাটতি ছিল। তবে বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যেই সারাদেশে ‘ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল ক্লাসরুম’ স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুর মেলান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনও। তিনি শিক্ষার আধুনিকায়নে এক দীর্ঘমেয়াদী এবং কার্যকরী দর্শনের কথা তুলে ধরেন। মাহদী আমিন জানান, শুধু ডিজিটাল ক্লাসরুম নয়, বরং শ্রেণিকক্ষকে প্রাণবন্ত ও ক্রিয়াশীল করার জন্য কাজ করছে সরকার। একইসাথে বিশ্বায়নের এই যুগে শিক্ষার্থীদের আরও এক ধাপ এগিয়ে রাখতে পাঠ্যক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তৃতীয় একটি ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা জানান তিনি।
সেমিনারের এই আলোচনা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, আগামীর বাংলাদেশকে একটি মেধাভিত্তিক ও দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে সরকার এখন বড় বিনিয়োগের পথে হাঁটছে। জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে তা দেশের শিক্ষা ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।