শারণের ব্যস্ততা, কমল সময়সীমা ------ গোলপাতা মৌসুম ঘিরে দুশ্চিন্তায় বাওয়ালিরা

 প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন   |   খুলনা

শারণের ব্যস্ততা, কমল সময়সীমা ------  গোলপাতা মৌসুম ঘিরে দুশ্চিন্তায় বাওয়ালিরা

মাসুদ আল হাসান, খুলনা 

গোলপাতা সংগ্রহের মৌসুম সামনে রেখে সুন্দরবনসংলগ্ন নদীতীরের জনপদে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাওয়ালিরা। আগামী ৩ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে তাঁরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে গোলপাতা আহরণ করতে পারবেন।

সুন্দরবন থেকে গোলপাতা সংগ্রহকারীদের স্থানীয়ভাবে বাওয়ালি বলা হয়। গোলপাতা বহনের জন্য ব্যবহৃত বড় আকৃতির বিশেষ নৌকাগুলো পরিচিত ‘বড় নৌকা’ বা ‘পেটকাটা নৌকা’ নামে। বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি নৌকা সর্বোচ্চ ৫০০ মণ বা ১৮৬ কুইন্টাল গোলপাতা বহন করতে পারবে এবং ২৮ দিন নির্ধারিত স্পট থেকে সংগ্রহের অনুমতি থাকবে।

খুলনার কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ, শাকবাড়িয়া ও কয়রা নদীর তীরে এখন নৌকা মেরামতের কাজ চলছে। 

স্থানীয়ভাবে এ সময়কে বলা হয় ‘শারণের সময়’। নৌকার নিচের পাটাতনে নতুন তক্তা বসানো, আলকাতরার প্রলেপ দেওয়া—সব মিলিয়ে প্রস্তুতি শেষ করতে ব্যস্ত সময় কাটছে বাওয়ালিদের।

বাওয়ালিদের দাবি, নৌকা মেরামত ও রাজস্বসহ এক নৌকা গোলপাতা আনতে খরচ পড়ে তিন লাখ টাকার বেশি। নতুন নৌকা নির্মাণে ব্যয় প্রায় সাত লাখ টাকা। বাজার আগের মতো না থাকায় আয়-ব্যয়ের সমীকরণ মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।

এবার গোলপাতা আহরণের সময়সীমা ২৮ দিনে সীমিত করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাওয়ালিরা। সুন্দরবন বাওয়ালি ফেডারেশন–এর নেতারা বলছেন, আগে দুই দফায় মোট ৫৬ দিনের অনুমতি থাকলেও এবার এক দফায় ২৮ দিন দেওয়া হয়েছে, যা বননির্ভর মানুষের ওপর চাপ বাড়াবে।

এ বিষয়ে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ–এর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের ওপর চাপ কমাতে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে বা অতিরিক্ত গোলপাতা বহন করলে দ্বিগুণ জরিমানা করা হবে। গোলপাতা ছাড়া অন্য কোনো কাঠ সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলেও তিনি জানান।