শিবগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন ও অপরাধ দমনে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা এমপি ড. কেরামত আলীর
আসিফ মোল্লা, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. কেরামত আলী শিবগঞ্জ উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক অপরাধ দমনে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
সোমবার শিবগঞ্জ থানা পরিদর্শনকালে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ইভটিজিং, নারী হেনস্তা, মাদক ব্যবসা এবং অন্যান্য সামাজিক অপরাধ সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত, কার্যকর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংসদ সদস্য বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। কোনো মেয়ে, মা কিংবা বোন যেন অনিরাপদ বোধ না করেন, সে লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। ইভটিজিং, নারী নির্যাতন ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।
ড. কেরামত আলী মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষায় মাদক ব্যবসা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস বা শিথিলতার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দল, মত বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে সমানভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় শিবগঞ্জ থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী দূরপাল্লার পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়েও তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় নজরদারি বৃদ্ধি এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, কোনো অনিয়ম বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা ছাড় দেওয়া যাবে না।
তিনি শিবগঞ্জ উপজেলাকে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।