চরজমিতে সোনালী সম্ভাবনা: চিনাবাদাম চাষে হাসছে কৃষকের মুখ
মোঃআশরাফুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ৮টি চরবেষ্টিত ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে যা, দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ৮টি চরবেষ্টিত ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে যা, দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশের চরাঞ্চলে কৃষির আধুনিকীকরণ ও দরিদ্র কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে “চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)”। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন চরাঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পতিত জমির সঠিক ব্যবহার এবং কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকল্পটি বাংলাদেশের ৩৫টি জেলার ১২১ টি উপজেলায় চলমান রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ৮টি চরবেষ্টিত ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে যা, দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সদর উপজেলার সবচেয়ে অবহেলিত ইউনিয়ন আলাতলি ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নের রাণীনগর ও হাকিমপুর ব্লকে জেগে উঠা চরে প্রায় ৬০০ বিঘা জমিতে চিনা বাদাম চাষ করা হয়েছে। বিস্তীর্ণ চর হয়ে উঠেছে সবুজ। কৃষকরা বুনছেন স্বপ্ন।
উপজেলা কৃষি অফিসার, সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মো: সুনাইন বিন জামান জানান, গত বছর রাণীনগরে জেগে উঠা চরে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে চিনা বাদাম চাষাবাদ করা হয়েছিল । এ বছর চর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ জিয়াউর রহমান স্যারের সহযোগিতায় রাণীনগর ও হাকিমপুর ব্লকের কৃষকদের নিয়ে ২৪ জন কৃষক চিনাবাদামের প্রদর্শনী প্রদান ও স্থাপন করা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু গবেষনা ইনস্টিটিউট (বিনা) চাঁপাইনবাবগঞ্জের সহযোগিতা নিয়ে বিস্তীর্ণ চরে চিনাবাদামের চাষাআবাদ করা হয়েছে। কৃষকদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা, পরামর্শ এবং নিয়মিত মাঠগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে । যার ফলস্বরূপ গতবারের চেয়ে এ বছর প্রায় ৫০০ বিঘা পতিত পড়ে থাকা জমিতে চিনা বাদামের চাষ হচ্ছে যা কৃষকদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার জানান এ বছর এখন পর্যন্ত চিনাবাদাম ফসলের সার্বিক অবস্থা ভালো এবং সর্ব্বোচ্চ ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদী। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তবে এ বছর প্রায় ৪৮০০ মন চিনাবাদামের ফলন হবে যার বাজারমূল্য দাড়াবে প্রায় ২ কোটি টাকা।
রাণীনগর চরের সরেজমিনে কৃষকদের সাথে কথা বললে কৃষকেরা জানান কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত তাদের খোঁজখবর রাখেন এবং কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন পরমার্শ দিয়ে থাকেন। রাণীনগর ব্লকের কৃষক মিলন আলী জানান গত বছর কৃষি অফিসার স্যারের সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছিলেন। লাভ হওয়ায় এবছর ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে চর প্রকল্পের প্রদর্শনী সহ প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে চিনা বাদাম চাষ করেছেন। তার মতো ফরিদ উদ্দীন, সেন্টু, শামীম সহ অন্যান্য আরো চরের কৃষকেরা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় চিনা বাদামের চাষ করে ভাগ্য উন্নয়নের আশায় স্বপ্ন বুনছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলার উপপরিচালক ড. মোঃ ইয়াছিন আলী জানান এ চর প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে এলাকা উপযোগী ফসলের আবাদ বৃদ্ধি করে পতিত জমি ব্যবহারে মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি করন। যার অংশ হিসেবে সদর উপজেলার প্রত্যন্ত চরে চিনাবাদামের চাষাবাদ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং পতিত জমির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।এ সাফল্য কৃষি বিভাগ সামনেও ধরে রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে দেয়ার জন-এধরনের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মতামত প্রকাশ করেন।