রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন
প্রথম ইউনিটে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক সরবরাহের আশা
রূপপুর প্রকল্প। ছবি-সংগৃহীত
বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) এই অনুমোদন প্রদান করে।
এর ফলে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।
বায়েরার তথ্যমতে, এই ধাপে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হবে, যার ফলে চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি উৎপাদন শুরু হবে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গাইডলাইন অনুযায়ী রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের স্টেজ 'বি ওয়ান' সফলভাবে শেষ হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতা কেটে যাওয়ার পর এখন 'বি টু' ধাপে চুল্লিকে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরু হবে, যা আগামী ডিসেম্বরে সম্ভব বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় এই অবকাঠামো প্রকল্পে রাশিয়ার প্রযুক্তিতে ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট তৈরি করা হচ্ছে। পুরো প্রকল্প থেকে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে আটটি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম ইউনিটে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে জেনারেশন থ্রি+ ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির নকশায় ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রিঅ্যাক্টর কোরে স্থাপন করা হবে। প্রতিটি রিঅ্যাক্টরের প্রাথমিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর, যা প্রয়োজনে আরও ২০ বছর বাড়ানো সম্ভব।
২০১১ সালের নভেম্বরে রূপপুর প্রকল্প নির্মাণের প্রাথমিক চুক্তি এবং ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে রোসাটমের সঙ্গে সাধারণ চুক্তি সই হয়েছিল। ২০১৬ সালে সাইট লাইসেন্স পাওয়ার পর ২০১৭ সালে প্রথম ও পরের বছর দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম ব্যাচের জ্বালানি পৌঁছানোর পর বিভিন্ন তাপ ও চাপের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করে উৎপাদন শুরুর এই চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছায় প্রথম ইউনিট।
প্রথম ইউনিট চালু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হবে। কেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু হলে এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ থেকে ১২ শতাংশ পূরণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।