জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী
ঢাকা, ৩১ শ্রাবণ (১৫ আগস্ট):
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন:
“মৎস্যখাত বাংলাদেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্যবিমোচন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এ খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি নিরাপদ, আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও রপ্তানিমুখী মৎস্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ধারাবাহিকভাবে সময়োপযোগী নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
বেসরকারি বিনিয়োগ, উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অংশীদারিত্বমূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মৎস্যখাতকে আরও উৎপাদনশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। ‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্য সেই জাতীয় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
মাছ কেবল প্রাণিজ আমিষ ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের প্রধান উৎসই নয়, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং দেশের সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নেও মৎস্যখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মৎস্যখাতের বিপুল সম্ভাবনা ও গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সরকার এর উন্নয়নে সময়োপযোগী নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে। সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে এ খাতের অর্জন আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিঠাপানির মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় এবং বদ্ধ জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে পঞ্চম। এই সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি আন্তরিক সাধুবাদ জানাই।
সরকার আগামী দিনে নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মৎস্য উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। চাষকৃত মাছের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থায় ক্ষতিকর রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং অণুজীবজনিত দূষণ দূরীকরণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে হ্যাচারি ও মাছের খাদ্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তার মান নিশ্চিত করতে দেশের পরীক্ষাগারসমূহ আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের মাছ ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে একটি স্বতন্ত্র বাণিজ্য উইং প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরে দেশের মোট মাছ উৎপাদন ৫ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য ঝুঁকিতে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে ও মৎস্যচাষিদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের প্রথম মৎস্য বিমা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ মৎস্যখাতকে আরও উৎপাদনশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
চলমান পাতা=০২
=০২=
‘জাল যার, জলা তার’-এই নীতির ভিত্তিতে প্রাকৃতিক জলাশয়ে প্রকৃত মৎস্যজীবী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মৎস্যচাষে যান্ত্রিকীকরণ ও নিবিড়করণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রাচুর্য সংরক্ষণ, উন্মুক্ত জলাশয়ের পরিবেশ ও প্রতিবেশ উন্নয়ন এবং জলজ দূষণ রোধে আরও কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ একান্ত জরুরি।
খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে নদীর সঙ্গে হাওর-বাঁওড়, খাল-বিল ও বিস্তৃত প্লাবনভূমির আন্তঃসংযোগ পুনরুদ্ধার হলে মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। আমাদের বিশাল সমুদ্র এলাকায় সুনীল অর্থনীতির (Blue Economy) অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ধারাবাহিক মজুত নিরূপণ, সম্পদ সংরক্ষণ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
আমি আশা করি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষক, উদ্যোক্তা, মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের মৎস্যখাত আরও সমৃদ্ধ হবে এবং দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, রপ্তানি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
আমি ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।”