পরিকল্পিত উদ্যোগে রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী
ঢাকা, ২৩ জুন ২০২৬ (৯ আষাঢ়): দেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে যথাযথ পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা, গবেষণা কার্যক্রম এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বর্তমান ৫০-৫৫ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপি উপস্থাপন ও পরামর্শমূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করেছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা ধরে রাখা এবং নতুন বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা। এ লক্ষ্যে শিল্পখাতে গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোর-জে) প্রকল্প সময়োপযোগী হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে। ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত অভিযোজন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
লেদার ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশীয় শিল্পখাত বৈশ্বিক মানদণ্ডে প্রতিযোগিতায় সক্ষম হয়ে ওঠে।
পাটখাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও জুটভিত্তিক ফ্যাব্রিক উৎপাদনে অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। এ খাতে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, শিল্পোন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পের কার্যকারিতা ও ফলাফল নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা জানতে এবং সমাধানে সহযোগিতা করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সবসময় প্রস্তুত। সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই মন্ত্রণালয়ের অন্যতম লক্ষ্য।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড)-এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।
কর্মশালায় বাণিজ্য সচিব জানান, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে বেসরকারি খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সেক্টরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
তিনি বলেন, ব্যবসা সহজীকরণ, ডিজিটালাইজেশন, নীতিগত সহায়তা এবং প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে একটি টেকসই ও কার্যকর মডেল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং সম্ভাব্যভাবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে (ইপিবি) বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে সম্পৃক্ত করে প্রকল্পটি পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইসিফোর-জে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি।
কর্মশালায় বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন