কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক, স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত

 প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক, স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত

 

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনার সময় পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চিফ হুইপ এবং জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যদের হস্তক্ষেপে বিতর্কের অবসান ঘটে।

বুধবার বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনাকারীদের প্রসঙ্গ তুলে কোরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, আল্লাহ সর্বোত্তম কৌশলী এবং যারা অন্যায় উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করে, তাদের পরিণতি শুভ হয় না। একইসঙ্গে তিনি সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে অস্বীকার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার সমালোচনা করেন।

তাঁর বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন অভিযোগ করেন, কোরআনের আয়াতকে রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা আয়াতের যথাযথ অর্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি দাবি করেন, ধর্মীয় বাণীর ভুল ব্যাখ্যা কিংবা অবমাননাকর উপস্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

মোমেন অতীতের একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, কোরআনের আয়াত নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ বা অপব্যাখ্যার বিষয়ে ইসলামে কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণীতে থাকা উচিত কি না, সে বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

জবাবে স্পিকার বলেন, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ একজন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য এবং ধর্মীয় বিষয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করার মানুষ বলে তাঁর মনে হয় না। তবে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট অংশ সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম-প্রধান দেশ; তাই কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

পরবর্তীতে আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কোরআনের ভুল ব্যাখ্যার অভিযোগ আনা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ একজন আলেম ও মাদ্রাসাশিক্ষিত ব্যক্তি; তিনি ধর্মীয় অবমাননার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেননি।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের গুরুত্ব এবং অকৃতজ্ঞতার পরিণতি সম্পর্কেই সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য কথা বলেছেন। বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিতর্ক দীর্ঘায়িত হতে থাকলে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি সংসদ সদস্যদের সংযত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদের জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দিলে অন্য সদস্যদের তা মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সংসদের সকল সদস্যই আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি বিশ্বাসী এবং আলোচিত সংসদ সদস্যও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই তাঁর বক্তব্যকে বিদ্রূপ বা অবমাননার দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই।

Advertisement
Advertisement
Advertisement