সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইমনের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

 প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইমনের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

সাইপ্রাসে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ ইমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ইমনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণও দাবি করেছিল।

নিহত ইমন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাখরনগর এলাকার বাসিন্দা নাসির মিয়ার ছেলে। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি সাইপ্রাসে অবস্থান করছিলেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে পুলিশ জানায়, গত ১২ জুন ওরোক্লিনি এলাকায় নিজের বাসা থেকে বের হওয়ার পর ইমনের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি কোফিনু এলাকার একটি কারখানায় প্রথম কর্মদিবসে যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে পরিচিতদের জানিয়েছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার রাতে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তিনি এক বন্ধুর কাছে নিজের অবস্থানের লোকেশন পাঠিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন ব্যক্তি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং নিহতের ব্যক্তিগত সামগ্রী কোথায় ফেলে রাখা হয়েছিল, সে সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন।

তদন্তে জানা গেছে, একটি বাসযাত্রার সময় ইমনের সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় হয়েছিল। অভিযুক্তের দাবি, সে সময় ইমনের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছিলেন।

পুলিশের ধারণা, ব্যক্তিগত ক্ষোভের পাশাপাশি অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যও হত্যাকাণ্ডের পেছনে কাজ করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইমনকে ওরোক্লিনি থেকে গাড়িতে তুলে কোফিনু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁকে হত্যা করে মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যার কয়েক ঘণ্টা পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ইমনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করেন। এর মাধ্যমে অপহরণের একটি ভুয়া নাটক সাজিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পচনশীল অবস্থায় ছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই ইমনকে হত্যা করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। ঘটনার নেপথ্যের সব তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement