মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রাধান্যে শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ সহযোগিতা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে আজ রোববার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছাবেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে তিনি দুই দিনের সরকারি সফরে দেশটিতে যাচ্ছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সফরকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং দুটি নোট অব এক্সচেঞ্জ স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ পুনরায় সহজ করা এবং বর্তমানে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা শ্রমিকদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে।
এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং জনশক্তি খাতে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হবে।
সফরকে কেন্দ্র করে কুয়ালালামপুরজুড়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা শোভা পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর শাংরি-লা হোটেলে অবস্থান করবেন। সেখানে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর মতবিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল সফরে অংশ নিচ্ছে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরকে কার্যকর ও সংক্ষিপ্ত রাখতে প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হবেন। পরে উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণের দিকগুলো গুরুত্ব পাবে।
মালয়েশিয়া সফর শেষে আগামী ২২ জুন দুপুরে কুয়ালালামপুর থেকে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত তাঁর চীন সফর অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৬ জুন বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি।
মালয়েশিয়া বিএনপির নেতারা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, বরং মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশির প্রত্যাশা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।