দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ ২০ লাখ ৬০ হাজার টন ছাড়িয়েছে, বলছে খাদ্য অধিদপ্তর

 প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ ২০ লাখ ৬০ হাজার টন ছাড়িয়েছে, বলছে খাদ্য অধিদপ্তর

দেশে সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুদ বর্তমানে নিরাপদ পর্যায়ের অনেক ওপরে রয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ দৈনন্দিন প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ জুন পর্যন্ত দেশে মোট খাদ্যশস্যের মজুদ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টনে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকারি গুদামগুলোতে বর্তমানে চালের মজুদ রয়েছে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন। এছাড়া গমের মজুদ রয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩১ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪ মেট্রিক টন। ফ্লোটিং বা ভাসমান মজুদ বাদ দিলে মোট খাদ্যশস্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ লাখ ৩৮ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন।

এর সঙ্গে সমুদ্রে বা পরিবহন প্রক্রিয়ায় থাকা গমের ২০ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন এবং চালের ১ হাজার ৯৬২ মেট্রিক টন যুক্ত হলে মোট মজুদের পরিমাণ ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়। খাদ্য মজুদের হিসাবের ক্ষেত্রে ধানকে চালে রূপান্তর (১০০:৬৫ অনুপাতে) করে মোট হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বোরো সংগ্রহ অভিযান দেশব্যাপী জোরেশোরে চলছে। গত ১৭ জুন পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন বোরো খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন ধান, ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ৩১ হাজার ৯৬৮ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৪৯৪ মেট্রিক টন গম।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে গত ১৭ জুন পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে মোট ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫১ টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে চাল আমদানি হয়েছে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ১৯৪ টন এবং গম আমদানি হয়েছে ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫৭ টন।

খাতভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সরকারিভাবে জিটুজি চুক্তি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে চাল ছিল ৫ লাখ ৩১ হাজার ৮০ টন এবং গম ৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৮ টন।

অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আমদানি করা হয়েছে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৩ টন খাদ্যশস্য। এর মধ্যে ৬৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৬ টন চাল এবং ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭ টন গম রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি অর্থবছরে খাদ্য সহায়তা হিসেবে কোনো চাল বা গম আমদানি করা হয়নি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মামুন মিয়া জানান, দেশে ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ থাকলেই তা নিরাপদ মজুদ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই হিসাবে বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক।

খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জামাল হোসেন বলেন, সরকারের নির্ধারিত সংগ্রহ ও মজুদ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংশ্লিষ্টরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং বর্তমানে খাদ্য মজুদ সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবুতাহের মো. মাসুদ রানা আশা প্রকাশ করে বলেন, চলমান বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমের ফলে আগামী মাসগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুদ আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি জানান, গত ৩ মে শুরু হওয়া সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এ সময়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

Advertisement
Advertisement
Advertisement