আবারও কমলো সোনার দাম, ভরিতে কমেছে ২ হাজার ২১৬ টাকা
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা।
শনিবার (২০ জুন) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। নতুন মূল্যতালিকা একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে খাঁটি সোনা বা তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দরে প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট সোনা বিক্রি হবে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা।
বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজ অনুযায়ী অতিরিক্ত মজুরি যোগ হতে পারে। যেহেতু বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাই গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পুনঃক্রয়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি এবং পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে আগের নিয়মই বহাল থাকবে। রুপার অলঙ্কারের ভ্যাট সংক্রান্ত বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে গত ১৯ জুনও স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। সেদিন প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৭৮ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ বার দাম বেড়েছে, ৩৮ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল; যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস পেয়েছিল।
এদিকে রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমানে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকায়। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ৪৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ বার দাম বেড়েছে এবং ২৩ বার কমেছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩ বার; যার মধ্যে ১০ বার দাম বৃদ্ধি এবং ৩ বার হ্রাস পেয়েছিল।