ছুটি শেষে চেনা ছন্দে ফিরল সচিবালয়, প্রথম দিনেই দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী

 প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ছুটি শেষে চেনা ছন্দে ফিরল সচিবালয়, প্রথম দিনেই দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক:

​পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের দীর্ঘ ছুটির অবসান ঘটিয়ে আবার চেনা ছন্দে ফিরেছে দেশের প্রশাসনিক হৃদপিণ্ড সচিবালয়সহ সব সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালত। আজ সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকার চিরচেনা রূপ এবং ব্যস্ততা পুরোদমে ডানা মেলতে শুরু করেছে। ঈদের আমেজ কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরা চাকুরিজীবীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরগুলো। দীর্ঘ অবকাশের পর প্রথম কর্মদিবসেই প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে সকালে নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল নয়টার কিছু পরেই কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁর গাড়ি বহর সচিবালয়ে প্রবেশ করে। সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন এবং তিনি যোগদানের পর পরই ফাইলের স্তূপ সরাতে ও নীতিনির্ধারণী কাজে গতি আনতে তৎপরতা শুরু হয়।

​প্রধানমন্ত্রীর মতো প্রথম দিনেই নিজ নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কাজের হাল ধরেছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ। সকাল সকালই দপ্তরে দেখা গেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের উপস্থিতিতে স্থবিরতা কাটিয়ে মন্ত্রণালয়গুলো প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। তবে কাজের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতার পর সহকর্মীদের একে অপরকে কাছে পাওয়ার আনন্দ ছিল দেখার মতো। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের করিডোর, কর্মকর্তাদের কক্ষ এবং লবিতে চলেছে ঈদের কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়। একে অপরকে মিষ্টিমুখ করানো এবং ছুটির দিনগুলোর গল্প ভাগাভাগি করার মধ্য দিয়ে সকালের দিকে সচিবালয় জুড়ে এক উৎসবমুখর আবহ বিরাজ করছিল।

​অবশ্য প্রথম কর্মদিবসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অনেক মন্ত্রণালয়ের টেবিলে ও ডেস্কে কর্মকর্তা কিংবা সহকারীদের চেয়ার খালি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার ঈদের ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় এবং ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ফেরার পথে দূরপাল্লার যানবাহনের সংকট ও মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণে অনেকেই প্রথম দিনে ঠিক সময়ে এসে পৌঁছাতে পারেননি। অনেকে আবার মূল ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত দু-একদিন নৈমিত্তিক ছুটি যোগ করে নিয়েছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এই শূন্যতা কেটে যাবে এবং দপ্তরের হাজিরা শতভাগে পৌঁছাবে।

​শুধু সচিবালয় কিংবা সরকারি অফিসই নয়, আজ থেকে পুরোদমে লেনদেন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু হয়েছে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শেয়ারবাজারে। ছুটির পর প্রথম দিন হওয়ায় ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ এসেছেন ঈদের খরচ পরবর্তী জমার প্রয়োজনে, কেউ বা এসেছেন জরুরি ব্যবসায়িক এলসি কিংবা ড্রাফটের কাজে। একইভাবে বিভিন্ন সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রথম দিনেই যাতে নাগরিক সেবা পেতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ের তদারকি জোরদার করেছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ যাতে কোনো হয়রানি ছাড়া তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সেবা পেতে পারেন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

​উল্লেখ্য, গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশজুড়ে টানা সরকারি ছুটি চললেও নাগরিক জীবনের গতি সচল রাখতে বেশ কিছু জরুরি বিভাগকে অবিরাম কাজ করতে হয়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট এবং ডাক বিভাগের মতো অত্যাবশ্যকীয় সেবার সঙ্গে জড়িত লাখো কর্মী ঈদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উৎসবের দিনগুলোতেও নাগরিক জীবনকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক রাখার পেছনে এই জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর অবদানকে আজ প্রথম কর্মদিবসে বিভিন্ন মহলে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, ঈদের আমেজকে পেছনে ফেলে এক নতুন উদ্যমে কর্মব্যস্ততায় ডুব দিয়েছে পুরো বাংলাদেশ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement