সম্প্রীতি ও উৎসবের আমেজে জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়
অনলাইন ডেস্ক:
ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত এক উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রাজধানী ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে ঢল নেমেছিল হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লির। বৈরী আবহাওয়া কিংবা যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ভোর থেকেই কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল ঈদগাহ ও তার আশপাশের এলাকা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে, কড়া চেকিংয়ের মধ্য দিয়ে মুসল্লিরা সারিবদ্ধভাবে ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করেন। ঈদের এই বিশেষ ক্ষণকে বরণ করে নিতে ঈদগাহ প্রাঙ্গণ এবং সংযোগকারী সড়কগুলোকে বর্ণিল তোরণ, ব্যানার ও জাতীয় পতাকায় সাজিয়ে তোলা হয়, যা পুরো এলাকায় এক অন্যরকম উৎসবের আবহ তৈরি করে। মে মাসের তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে সুপেয় পানির বিশেষ বুথ স্থাপন করা হয়, যা দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের স্বস্তি এনে দেয়।
এবারের প্রধান জামাতে রাজনীতিক, কূটনীতিবিদ এবং সাধারণ নাগরিকদের এক অভূতপূর্ব মিলনমেলা দেখা যায়। জামাতে সাধারণ মুসল্লিদের পাশাপাশি অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়াও প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এখানে নামাজ আদায় করেন। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরাও এই জামাতে অংশ নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সর্বস্তরের মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরস্পরের কোলাকুলি এবং হাসিমুখে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর এই দৃশ্য ঈদগাহ ময়দানে এক পঙক্তিতে সবাইকে দাঁড় করিয়ে দেয়, যা ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের চিরন্তন বার্তাকেই পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জাতীয় ঈদগাহের এই প্রধান জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সম্মানিত খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। নামাজের নির্ধারিত সময়ের আগে তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে পবিত্র ঈদুল আজহার তাৎপর্য, কোরবানি ও ত্যাগের শিক্ষা নিয়ে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর এক বিশেষ বয়ান পেশ করেন। নামাজ শেষে মহান আল্লাহর দরবারে খুতবাহ পাঠ করা হয়। এরপর খতিব মহোদয় সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, বাংলাদেশের মানুষের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। আমিন, আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ঈদগাহ ময়দান। নামাজ শেষে সাধারণ মুসল্লিরা জানান, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নামাজ আদায় করতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। জাতীয় ঈদগাহের এই জামাত কেবল একটি ধর্মীয় সমাবেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি রূপ নিয়েছিল সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায়।