সংবাদ শিরোনাম

মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ

 প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

‘মাছে-ভাতে বাঙালি’—এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে দেশে মাছের উৎপাদন আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, বিশ্বে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। এই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অডিটোরিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পোনামাছ অবমুক্তকরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মৎস্য খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ফিসারিজ সেক্টরের পরিধি অনেক বিস্তৃত। এই খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও রয়েছে ব্যাপক। একসময় মৎস্য খাতকে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দেওয়া হলেও সময়ের সঙ্গে এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মৎস্যসম্পদের সম্ভাবনা উপলব্ধি করে খাল খননের মাধ্যমে এ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং মানুষকে মাছ চাষে উৎসাহিত করেছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এর ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় মৎস্য পক্ষের সূচনা করেন। মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেও বিভিন্ন সময়ে খাল খনন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নদ-নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও জলদূষণ রোধের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, দেশের অনেক নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা কমে গেছে। নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি আগের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের বিষয়েও সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ গভীর সমুদ্র থেকে পরিকল্পিতভাবে মাছ আহরণে সক্ষম হলে দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান আরও বাড়বে। এ খাতকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার দুয়ারও খুলতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে মৎস্য খাতে কাজের সুযোগ আরও বাড়বে। শিক্ষার্থীরা জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে এ খাতে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বর্তমানে মৎস্যসম্পদকে গুরুত্ব দিয়ে এর উন্নয়নে কাজ করছে। তাই মৎস্য বিষয়ে জ্ঞানচর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে মৎস্য শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে সম্মিলিত উদ্যোগ দরকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওয়াহিদা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম