পশুরহাটে নারীদের স্বস্তিতে ডিএনসিসির ‘পিঙ্ক টয়লেট’: বর্জ্য ও যানজট মুক্ত ব্যবস্থাপনার কড়া হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
ঈদুল আজহার আর মাত্র বাকি কিছুদিন। এরই মধ্যে রাজধানীর পশুর হাটগুলোকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি। তবে এবারের কোরবানির হাটে শুধু পশু কেনাবেচাই নয়, ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এক ব্যতিক্রমী ও আধুনিক উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। হাটে আসা নারী ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এবার প্রতিটি পশুরহাটে বিশেষায়িত ‘পিঙ্ক টয়লেট’ বা গোলাপি রঙের শৌচাগার নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের জনদুর্ভোগ, যানজট কিংবা বর্জ্যের স্তূপ জমে থাকলে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২০ মে) সকালে ডিএনসিসির প্রধান কার্যালয়ে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় এই নির্দেশনা দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। সভায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকাভুক্ত প্রতিটি হাটে নারীদের জন্য আলাদা ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। চিরাচরিত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বৃত্ত থেকে বের হয়ে এসে প্রতিটি পশুরহাটে দৃশ্যমান গোলাপি রঙের এই ‘পিঙ্ক টয়লেট’ স্থাপন করা বাধ্যতামূলক, যাতে নারীরা কোনো ধরনের সংকোচ বা অস্বস্তি ছাড়াই তা ব্যবহার করতে পারেন।
আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় পশুর হাটগুলোকে আরও পরিবার-বান্ধব করার ওপর জোর দিয়ে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এখন আর শুধু পুরুষেরা হাটে যান না, বরং অনেকেই সপরিবারে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সঙ্গে নিয়ে হাটের আমেজ উপভোগ করতে এবং পছন্দের পশুটি কিনতে আসেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত শৌচাগার না থাকায় নারীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এই ভোগান্তির অবসান ঘটাতেই এবার বিশেষ রঙের এই টয়লেট নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারীদের জন্য এই বিশেষায়িত শৌচাগারে নিরাপদ পানি, পর্যাপ্ত আলো ও পরিচ্ছন্নতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তিনি ইজারাদারদের কড়া নির্দেশ দেন।
কেবল শৌচাগার নির্মাণই নয়, পশুর হাটকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর রাজধানীর যে তীব্র যানজট ও বর্জ্যের ভোগান্তি তৈরি হয়, তা নিরসনে এবার শূন্য সহনশীলতা বা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে ডিএনসিসি। সভায় ডিএনসিসি প্রশাসক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, হাটের সীমানা ছাড়িয়ে কোনোভাবেই মূল সড়কে পশু রাখা যাবে না এবং হাটের কারণে রাস্তায় কোনো ধরনের যানজট সৃষ্টি হলে সিটি করপোরেশন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া পশুর হাটের প্রধান একটি সমস্যা হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এই সমস্যা সমাধানে তিনি প্রতিটি হাটের প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিন রাতের মধ্যেই সম্পূর্ণ অপসারণ করার নির্দেশ দেন। পশুর হাটের কারণে যেন কোনো নাগরিকের স্বাভাবিক চলাচলের ব্যাঘাত না ঘটে এবং চারপাশের পরিবেশ দূষিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের বিশেষ পরিদর্শক দল সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ইজারাদারেরা প্রশাসকের এই সময়োপযোগী ও মানবিক নির্দেশনাকে সাধুবাদ জানান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব শর্ত মেনে ডিজিটাল ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত পশুর হাট প্রস্তুত করার প্রতিশ্রুতি দেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিএনসিসির এই ‘পিঙ্ক টয়লেট’ ও তাৎক্ষণিক বর্জ্য অপসারণের উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা ঢাকার কোরবানির হাটের ঐতিহ্যবাহী অবয়ব বদলে দিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নাগরিক সংস্কৃতির সূচনা করবে।