১১ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
অনলাইন ডেস্ক:
বৈশাখের তীব্র দাবদাহের পর এবার দেশের এক বিশাল অংশ জুড়ে চোখ রাঙাচ্ছে কালবৈশাখী। ঢাকাসহ দেশের ১১টি জেলায় দুপুরের মধ্যেই ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসতে পারে তীব্র ঝড়। সেই সঙ্গে কালবৈশাখীর চিরচেনা রূপ নিয়ে ধেয়ে আসছে মুষলধারে বৃষ্টি আর বজ্রপাত। আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া এক জরুরি সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আচমকা আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে নদী অববাহিকা ও সংলগ্ন এলাকার জনজীবনে এক ধরনের উদ্বেগ ও ব্যস্ততা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে এই ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। মূলত পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা এই অস্থায়ী দমকা হাওয়া নিমেষেই লণ্ডভণ্ড করে দিতে পারে কাঁচা ঘরবাড়ি কিংবা ফসলের মাঠ। ঝড়ো হাওয়ার পাশাপাশি এসব এলাকায় তীব্র বজ্রপাতসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় নদীপথের ছোট ছোট নৌযানগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে এসব এলাকার সব নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
সাধারণত মে মাসের এই সময়ে আবহাওয়া চরম ভাবাপন্ন রূপ ধারণ করে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং পশ্চিমা লঘুচাপের মেলবন্ধনে দেশের আকাশে মেঘের ঘনঘটা বেড়েই চলেছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল দুপুরের এই ঝড়েই পরিস্থিতির অবসান ঘটছে না। আগামী কয়েক দিন ধরে দেশের প্রায় সব বিভাগেই কম-বেশি ঝড়-বৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। কোনো কোনো অঞ্চলে মেঘের গর্জন বাড়ার পাশাপাশি মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানির স্তর কিছুটা বাড়িয়ে দিতে পারে।
হঠাৎ এই বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস আসায় সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দেশের চাষিরা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় এখনো বোরো ধান পুরোপুরি কাটা শেষ হয়নি, সেখানকার কৃষকেরা দ্রুত ফসল ঘরে তোলার তাগিদ অনুভব করছেন। অন্যদিকে, ঢাকার মতো জনবহুল মেগাসিটিতে দুপুরের এই ঝড়ো হাওয়া আর বৃষ্টি রাজপথের চিরচেনা যানজটকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নদীবন্দরের লঞ্চ ও ট্রলার চালকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাবধানে উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে অনুরোধ জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ।