‘আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে সরকারের প্রতি আস্থা তলানিতে’
প্রতিবেদক, কুমিল্লা
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। বর্তমান প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে সরকারের প্রতি জনগণের অবশিষ্ট বিশ্বাসটুকুও অচিরেই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। রোববার (১৭ মে) কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত এনসিপির এক বিশাল পদযাত্রা ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার দিকে আঙুল তুলে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি স্থানীয় একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ব্যাখ্যা করেন। তাঁর ভাষ্যমতে, অনেকে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও গুণের কথা প্রচার করলেও মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভিন্ন কথা বলছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, গত মাত্র চার মাসে মেঘনা উপজেলাতেই চারটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একটি সুনির্দিষ্ট উপজেলায় এত অল্প সময়ে এতগুলো খুনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলার চরম বিপর্যয়কে নির্দেশ করে।
এই ব্যর্থতার জন্য সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দায়ী করে হাসনাত আব্দুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মূল দায়িত্ব পালন না করে অন্য মন্ত্রীদের পক্ষে ওকালতি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মন্ত্রী যখন কখনো প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আবার কখনো অর্থমন্ত্রীর পক্ষে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে ব্যস্ত, তখন নিজের মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। নিজের বিভাগ নিয়ে মন্ত্রীর দূরদর্শিতা ও চিন্তার অভাব রয়েছে বলেই অপরাধীরা আজ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মেঘনা উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক এম কে রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ। সমাবেশে বক্তারা সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতির সমালোচনা করেন এবং দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার ওপর জোর দেন। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সমাবেশটিকে একটি গণজমায়েতে রূপ দেয়।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের মেরুকরণ লক্ষ্য করা যায়। বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণে ক্ষুব্ধ এবং দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে দিশেহারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আসা প্রায় ১০০ জন নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদান করেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ নবাগত এই রাজনৈতিক কর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে তাদের স্বাগত জানান। এই নতুন যোগদানের ফলে অঞ্চলে এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে এবং আগামী দিনে তারা জনগণের অধিকার আদায়ে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন দলটির শীর্ষ নেতারা।