অটিজম জয়ী আগামীর বাংলাদেশ: বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার ডাক রাষ্ট্রপতির

 প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়

অটিজম জয়ী আগামীর বাংলাদেশ: বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার ডাক রাষ্ট্রপতির

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​সকালটা ছিল সচেতনতার নতুন এক স্নিগ্ধ আলোয় মোড়ানো। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬’। এই বিশেষ দিনটিকে সামনে রেখে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশের আপামর জনতা, বিশেষ করে সমাজের নীতিনির্ধারক ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের প্রতি এক উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে একটিই অঙ্গীকার—একটি প্রতিবন্ধীবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন। রাষ্ট্রপতির এই বার্তা কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বাণী নয়, বরং এটি একটি মানবিক সমাজ বিনির্মাণের রূপরেখা।

​মঙ্গলবার এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি গভীর মমতা নিয়ে স্মরণ করেন অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু, ব্যক্তি এবং তাঁদের লড়াকু পরিবারগুলোকে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অটিজম বা স্নায়ু বিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্তরা আমাদের দয়া বা করুণার পাত্র নন, বরং তাঁরা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি বৈষম্যমুক্ত কল্যাণ রাষ্ট্র তখনই সার্থক হবে, যখন সমাজের এই অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে মূলধারার উন্নয়নের স্রোতে পূর্ণ শক্তিতে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।

​রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক দিক উন্মোচন করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, উপযুক্ত পরিবেশ ও সঠিক পরিচর্যা পেলে অটিস্টিক শিশুরা হয়ে উঠতে পারে দেশ ও জাতির অমূল্য সম্পদ। ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, বিশ্বের অনেক বিখ্যাত মনীষী ও বিজ্ঞানী ভিন্নভাবে সক্ষম ছিলেন। ঠিক একইভাবে আমাদের দেশের অটিস্টিক শিশুদের মধ্যেও লুকিয়ে আছে সুরের মূর্ছনা, তুলির আঁচড় কিংবা গণিত ও তথ্যপ্রযুক্তির বিস্ময়কর প্রতিভা। যথাযথ সহমর্মিতা আর একটুখানি সুযোগ পেলে তাঁরা যে সাধারণ শিশুদের মতোই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে পারে, রাষ্ট্রপতি সেই সত্যটিকেই জাতির সামনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।

​বর্তমান সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দর্শনের কথা উল্লেখ করে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম শর্ত হলো প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা। তবে এই যাত্রায় শৈশবেই অটিজম শনাক্ত করা এবং সঠিক থেরাপি নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি অভিভাবক ও চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন প্রাথমিক পর্যায়েই এই শিশুদের বিশেষ চাহিদাগুলো চিহ্নিত করা হয়। স্নেহ, ভালোবাসা আর মানবিক পরিবেশে বড় হতে পারলে অটিজম আক্রান্তরা আর সমাজের বোঝা হয়ে থাকবে না, বরং সৃজনশীল কর্মক্ষম মানুষ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

​বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের এই ক্ষণে রাষ্ট্রপতির এই আহ্বান দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সচেতন নাগরিকদের জন্য এক বিশেষ দিকনির্দেশনা। একটি সংবেদনশীল সমাজ হিসেবে আমরা কতটা এগোলাম, তা পরিমাপের সময় এখন। রাষ্ট্রপতির প্রত্যাশা—মানসম্মত শিক্ষা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ আর অকৃত্রিম স্নেহের পরশে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রতিটি মানুষ যেন এক অনন্য সম্পদে পরিণত হয়, যা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে এক মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement