একীভূত হচ্ছে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা: ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মীর সমন্বিত মহালক্ষ্য

 প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

একীভূত হচ্ছে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা: ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মীর সমন্বিত মহালক্ষ্য

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ৭ মে, ২০২৬

​দেশের তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। মাঠপর্যায়ে কাজের দ্বৈততা (ডুপ্লিকেশন) পরিহার এবং সেবার মানোন্নয়নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও কমিউনিটি ক্লিনিকের জনবলকে একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীনে আনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

​বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি’ বিষয়ক এক নীতি সংলাপে তিনি এই মহাপরিকল্পনার কথা জানান। বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও সুইডিশ একটি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।

​সমন্বিত কাঠামোর মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ

​প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করা ৪০ হাজার কর্মীর সাথে আরও ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার। এই বিশাল বাহিনীকে কেন্দ্র করে সাজানো হচ্ছে নতুন কর্মপরিকল্পনা:

​অভিন্ন কর্মপরিধি: ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মীর সবার জন্য থাকবে একই ধরনের ‘জব ডেসক্রিপশন’ বা কাজের বিবরণ।

​অ্যাসেনশিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ: প্রতিটি স্তরে একই মানের সেবা নিশ্চিত করতে একটি নির্দিষ্ট সার্ভিস প্যাকেজ কার্যকর করা হবে।

​কাভারেজ গ্যাপ দূরীকরণ: একই বাড়িতে বারবার ভিন্ন ভিন্ন কর্মীর যাওয়া বন্ধ করে, প্রতিটি প্রান্তিক পরিবারকে সেবার আওতায় আনা হবে।

​প্রযুক্তির ব্যবহার: রিয়েল টাইম ডাটা সংগ্রহ এবং স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

​জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ থেকে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন

​ড. এম এ মুহিত বলেন, “পরিবার পরিকল্পনার বর্তমান কাঠামো আমাদের বোঝা নয়, বরং সম্পদ। তবে সময়ের প্রয়োজনে একে আধুনিক ও পুনর্গঠিত করতে হবে।” এখন থেকে শুধুমাত্র জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতেই মূল জোর দেওয়া হবে।

​তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ নিজস্ব উদ্যোগে গর্ভনিরোধক সামগ্রী ব্যবহার করছেন। সচেতনতা বাড়িয়ে এই হার ৭০ শতাংশে উন্নীত করতে পারলে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমবে এবং সেই অর্থ জনস্বাস্থ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করা সম্ভব হবে।

​বাজেট ও দক্ষতা: বড় চ্যালেঞ্জ যেখানে

​স্বাস্থ্য খাতের অর্থায়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি স্বীকার করেন যে, অর্থের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো অদক্ষতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা। সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিলেও সেটি সফল করতে মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা বাড়ানো অপরিহার্য।

​“আমরা এমন একটি হেলথ সিস্টেম চাই যা সম্পূর্ণ রি-অর্গানাইজড এবং আধুনিক। যেখানে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।”— ড. এম এ মুহিত, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

​বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন: সমন্বিত সেবাই আগামীর পথ

​প্যানেল আলোচনায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে সেবার অপচয় হয়। একই এলাকায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হন। ১ লাখ নতুন কর্মী নিয়োগ এবং সবার জন্য অভিন্ন নির্দেশিকা কার্যকর হলে বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এশিয়ায় একটি রোল মডেলে পরিণত হতে পারে।

​তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এই বিশাল জনবলকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা এবং টেকনিক্যাল দক্ষতা নিশ্চিত করাই হবে নতুন এই পরিকল্পনার প্রধান পরীক্ষা।

​উপস্থিত ছিলেন: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমাদ, সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তসলিম উদ্দিন খানসহ দেশের বিশিষ্ট স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement