পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক করতে জার্মানির সহায়তা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয় রাষ্ট্রদূতে। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বন্ধুপ্রতীম দেশ জার্মানির কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত
বৈঠকের শুরুতেই নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান জার্মান রাষ্ট্রদূত। দুই নেতার আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ের পাশাপাশি গুরুত্ব পায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আধুনিকায়ন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জার্মানি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং তৈরি পোশাক শিল্পের প্রসারে জার্মানির ভূমিকা অনস্বীকার্য।”
পুলিশের আধুনিকায়নে বিশেষ জোর
সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশ বাহিনীকে আরও দক্ষ ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জার্মানির উন্নত প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন। আধুনিক অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের বিষয়ে জার্মানি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে দুই দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় ফলপ্রসূ হবে।
জার্মানির ইতিবাচক সাড়া
রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বিভিন্ন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আধুনিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে তারা ইতিবাচকভাবে কাজ করবেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যায়ন
এই বৈঠকটি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আধুনিকায়নে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দেশ জার্মানির প্রযুক্তিগত সহায়তা বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে কারিগরি সহায়তা এবং প্রশিক্ষণের যে আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন হলে বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। এটি কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং নিরাপত্তা খাত সংস্কারে একটি কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।