ফুটপাত যেন মরণফাঁদ: হকার কার্ড বাতিল ও দখলমুক্তের আলটিমেটাম

 প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

ফুটপাত যেন মরণফাঁদ: হকার কার্ড বাতিল ও দখলমুক্তের আলটিমেটাম

​নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​রাজধানীর রাজপথ আর ফুটপাত এখন পথচারীর নয়, বরং দখলদারদের অভয়ারণ্য। সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবার আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন রাস্তা ও ফুটপাত থেকে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বিতর্কিত ‘হকার কার্ড’ বাতিলের দাবিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাদিম মাহমুদ স্থানীয় সরকার, সড়ক পরিবহন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের এই নোটিশ পাঠান।

​নোটিশে এক ভয়াবহ বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে। দিনের পর দিন ঢাকার জনবহুল এলাকার ফুটপাতগুলো টেবিল-চেয়ার, অস্থায়ী দোকান, রেস্তোরাঁ আর মোবাইল মার্কেটের দখলে চলে গেছে। বাধ্য হয়ে পথচারীরা মূল সড়কে নেমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। এতে শুধু জনদুর্ভোগই বাড়ছে না, বাড়ছে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনাও। আইনজীবী নাদিম মাহমুদ সতর্ক করে জানিয়েছেন, ফুটপাত চিহ্নিত করে ‘হকার কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে কার্যত অবৈধ দখলদারিত্বকে আইনি রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী ও সংবিধান পরিপন্থি। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে ঢাকার যানজট সমস্যা এক ভয়াবহ ও স্থায়ী রূপ নেবে।

​দাবি আদায়ে ছয় দফার কঠোর বার্তা

​এই বিশৃঙ্খলা নিরসনে নোটিশে সুনির্দিষ্ট ৬টি পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, অবিলম্বে বিতর্কিত ও বেআইনিভাবে বরাদ্দকৃত সকল ‘হকার কার্ড’ বাতিল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সব রাস্তা ও ফুটপাত থেকে হকার, দোকান ও অস্থায়ী কাঠামো সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করার উদ্যোগ নিতে হবে। তৃতীয়ত, যারা এই অবৈধ দখলের সাথে সরাসরি জড়িত কিংবা নেপথ্যে থেকে সহযোগিতা করছে, তাদের তালিকা প্রস্তুত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

​ভবিষ্যতে যেন ফুটপাত পুনরায় দখল না হয়, সেজন্য চতুর্থ দাবি হিসেবে একটি পৃথক মনিটরিং সেল বা টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ দাবিটি হলো—যদি হকারদের পুনর্বাসনের প্রয়োজন হয়, তবে তা অবশ্যই মূল ফুটপাত বা চলাচলের পথের বাইরে কোনো আইনসম্মত ও সুপরিকল্পিত স্থানে ‘বিকল্প হকার জোন’ হিসেবে নিশ্চিত করতে হবে। সবশেষে, এই পুরো উচ্ছেদ প্রক্রিয়া ও গৃহীত পদক্ষেপের একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে, যাতে নাগরিকরা অগ্রগতির সঠিক চিত্র জানতে পারে।

​নোটিশে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নে সন্তোষজনক ব্যবস্থা না নিলে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে। জনস্বার্থে নেওয়া এই আইনি পদক্ষেপ এখন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাগরিক সমাজ আশা করছে, এবার হয়তো ঢাকার রাজপথ ফিরে পাবে তার হারানো শৃঙ্খলা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement