রেলের ভোল বদলে সচিবের কড়া হুঁশিয়ারি: সেবার মান ও শৃঙ্খলায় আপস নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রেলপথের বাঁকে বাঁকে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যাত্রীসেবার ঝিমিয়ে পড়া মানে গতি সঞ্চার করতে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে রেলে মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর রেলভবনের কনফারেন্স কক্ষ ‘পদ্মা’য় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—সেবার মানোন্নয়নই হবে এখন রেলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে কেবল একটি পরিবহন সংস্থা নয়, এটি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক। সেই আস্থা ধরে রাখতে হলে অপারেশন, বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত—প্রতিটি বিভাগকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কোথাও কোনো ত্রুটি বা অসংগতি চোখে পড়লে তা নিয়ে কালক্ষেপণ করার সুযোগ নেই, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপদ ও মানসম্মত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়াকেই রেলওয়ের পরম লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন সচিবের বক্তব্যের সুরে সুর মিলিয়ে জানান, মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় প্রশাসন পর্যন্ত সব স্তরে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা রক্ষা এবং যাত্রীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে রেলের সেবার চেহারাই বদলে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় রেলওয়ের অনবোর্ড ও ক্যাটারিং সেবায় নিয়োজিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা তাদের প্রতিশ্রুতি ও সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। সুরুচি ফাস্টফুডের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রাজ্জাক সচিবের নির্দেশ বাস্তবায়নে মালিকপক্ষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আশ্বাস দেন। অন্যদিকে, এস এ কর্পোরেশনের প্রতিনিধি মতিউর রহমান সম্রাট যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে জিআরপি ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত টাস্কফোর্স গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তবে সেবার পথে কাঁটা হিসেবে উঠে এসেছে বাজেট স্বল্পতার বিষয়টিও। হাবীব বাণিজ্য বিতানের স্বত্বাধিকারী মামুন হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, দীর্ঘ এক বছর ধরে বিল বকেয়া থাকলেও যাত্রীসেবার স্বার্থে তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বলাকা ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি মতিনসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা রেলের মানোন্নয়নে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কথা জানান।
মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই সভাটি মূলত রেলের প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক স্তরে এক ধরনের জাগরণ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের প্রত্যাশা, সচিবের এই কঠোর নির্দেশনা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে স্টেশনে স্টেশনে এবং ট্রেনের কামরায় বাস্তব রূপ পাবে।